মতামত || আত্মপ্রকাশের একদিনেই ‘জানাপ’-এর দ্বিচারিতা ও গোপন তথ্য ফাঁস

মতামত || আত্মপ্রকাশের একদিনেই ‘জানাপ’-এর দ্বিচারিতা ও গোপন তথ্য ফাঁস
শেয়ার করুন

মতামত

নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আদর্শ ও কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। এনসিপির বহুত্ববাদী অবস্থান ও ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরে এটিকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকে।

বহুত্বুবাদ বিতর্ক
এই বিতর্ক শুরু হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির দল ঘোষনার পর পরি, যখন দেখা যায় সমন্বয়কদের জুলাই মাসে সেইফ হোমের ব্যাবস্থা করে দেয়া মুনতাসীর একজন গে-রাইটস একটিভিস্ট। যদিও জুলকারনাইন সামি সহ আরেকজন প্রাভাবশালি সাংবাদিকদের বয়ানে দুই সপ্তাহ আগে উক্ত গে একটিভিস্ট এর সাহায্য করার বিষয়টা উঠে এসেছিল। এবং মাইক বেঞ্জের রিপোর্টে উঠে এসেছিল ইউএসএইড এর ফান্ডিং গে-এক্টিভিস্ট, র‍্যাপার, হিজড়াদের সংঘঠিত করা হয়েছিল জুলাই অভ্যুত্থান কে উদ্দেশ্য করে।

নেটিজেনরা প্রশ্ন করছেন, সব জেনে কেনোই বা মুনতাসির কে পদ দেয়া হলো, আর সমালোচনার মুখে কেনই বা সারজিস, হাসনাত ইসলাম বিরোধী কোন কাজ না করার ঘোষনা দিয়ে মুনতাসীর এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে যাচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট সমন্বয়করা এমন প্রশ্ন করছেন যে

মুনতাসির হোম এর ব্যবস্থা করেই কেন্দ্রীয় কমিটির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠলো। আর জোনায়েদ রিফাতরা এত কিছু করেও মাইনাস হয়ে গেল৷ এটাই বাস্তব, আই লাভ ইউ।
আপনাকে বিশ্বাস করলাম যে আপনি জানতেন না। তার মানে এই না যে জানাক এর কেউ জানতো না।

তাহলে বিষয়টা জানাক এর পরিষ্কার করা উচিত যে, আমরা সেই বহুত্ববাদকে সাপোর্ট করবো যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। অথবা তারা সরাসরি বলে দিতে পারে, আমাদের দল পরিচালিত হবে ইসলামের শরিয়া মেনে। এতো লুকাছাপা কেন? কি আড়াল করার চেষ্টা করছে তারা?

লেজুড়বৃত্তিক সংঘঠন

এনসিপি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে বলেছিল তারা কোনো লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠন গঠন করবে না, কিন্তু দলটির ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদকে তারা নিজেদের ছাত্র সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি কি সাধারণ ছাত্রসমাজের সঙ্গে প্রতারণা নয়?

যেই ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ধুয়া তুলে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হলো, সেই ছাত্র রাজনীতি আবার নিজেদের স্বার্থেই জায়েজ করছে জানাপ। এটা সত্য যে হাজার হাজার ছাত্র দলীয় রাজনীতির প্রভাব ও সুবিধামুক্ত থেকে সংঘঠন করতে চায়। তারা এখন দেখতে পাচ্ছে, কিছুই বদলায় নাই, ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংঘটন আবারও তাদের উপর ছড়ি ঘোরাবে, তাদের পরিচালিত করার চেষ্টা করবে, মিটিং মিছিলে হাজিরা দিতে বাধ্য করবে।

অথবা এটাও দেখার বিষয় যে, ঢাবি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে “বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ” কমিটি দিতে গেলে জানাপ বা জানাক এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে বঞ্চিতরা কিভাবে তাদের গ্রহন করে।

দেখা যাক, জানাক ও জানাপ এর দ্বিচারিতায় ছাত্ররা কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

শরিফুল হাসান

অনলাইন একটভিস্ট

Visited 437 times, 1 visit(s) today