‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ আলমের ডাক “আরেকবার চেষ্টা করে দেখি”; আবারো ভ্রান্ত ও কাল্পনিক বিপ্লবের মূল্য চুকাতে পারবে বাংলাদেশ?

‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ আলমের ডাক “আরেকবার চেষ্টা করে দেখি”; আবারো ভ্রান্ত ও কাল্পনিক বিপ্লবের মূল্য চুকাতে পারবে বাংলাদেশ?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাক্তন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম গতকাল (জানুয়ারি ১০) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে “আরেকবার চেষ্টা করে দেখি” বলে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত দুই সপ্তাহে কয়েকশ ছাত্র ও নাগরিকের সঙ্গে আলোচনায় হতাশা ও আস্থাহীনতা লক্ষ্য করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই “আরেকবার চেষ্টা” করতে চান। তিনি আগ্রহীদের যোগাযোগের জন্য ই-মেইলও দিয়েছেন এবং “উই নিড ফ্রেশ ব্লাড” বলে নতুন মানুষ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন।

আন্দোলনকারীরা ক্ষমতা, উগ্রতা, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বহুদা বিভক্ত হয়েছে গত ১৭ মাসে। যার শেষ হয়েছে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের এক অংশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে আর একটা বড় অংশের “জাতীয় নাগরিক পার্টি” থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে।

মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে নাগরিক পার্টি বা বিএনপি কেউই মাহফুজ আলমকে নিতে আগ্রহী না হওয়ায় তিনি আবার নতুন শুরুর ডাক দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অনেকে মনে করছেন, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা জুলাই আন্দোলনকারীদের একটা বড় অংশ দেখেই আসলে মাস্টারমাইন্ড লালায়িত হয়েছেন নতুন কিছু শুরু করার। যদি মাহফুজ আলমকে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের টিকিট দিতেন, তাহলে পদত্যাগকারীদের প্রতি তার কোনো আগ্রহ জন্মাত না। অর্থাৎ কোথাও জায়গা না পেয়েই পদত্যাগকারীদের নিয়ে দল ভারী করতে চাচ্ছেন মাহফুজ আলম।

গত ১৭ মাসে, অর্থাৎ আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করেছিল, তা অনেক ক্ষেত্রেই গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও ন্যায়বিচারের, তা ধীরে ধীরে বিশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবনতি এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়ে রূপ নিয়েছে। জনতার হিংসা বা মব জাস্টিসের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে—২০২৫ সালের প্রথম দশ মাসেই শতাধিকের বেশি মানুষ এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের উপর জনগণের আস্থা কমে গেছে, ফলে অপরাধের বিচারহীনতা বেড়েছে এবং স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

তাদের আবার চেষ্টা, আরেক ভ্রান্ত বিপ্লবের হাতছানির ফলাফল অরাজকতা, সহিংসতা, উগ্রতা আর ধ্বংসাত্মক মানসিকতার ভার কি বাংলাদেশের মানুষ আর নিতে পারবে?

এই সময়কালে দেশের যে স্থিতিশীলতা ও অর্জনগুলো একসময় গর্বের ছিল—যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভের স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি—সেগুলো গভীর ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে, বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়েছে এবং সমাজে অস্থিরতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই সংকটগুলো দেশকে একটি গুরুতর সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে পুনরুদ্ধারের পথ এখনও অনিশ্চিত।

 

Visited 10 times, 1 visit(s) today