নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা , যিনি ডিপ স্টেটের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত তিনি বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। সে ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যেই ‘ছাত্র কোটা’র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের মাধ্যমে নতুন দল গঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ট সাংবাদিক মহলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ছাত্রদের নতুন দল গঠিত হয়েছে এবং এটার প্রধান হতে যাচ্ছেন ‘ছাত্র কোটা’র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। যিনি প্রথমে কোটা বাতিল আন্দোলন যেটাকে পরবর্তীতে ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইন’-এর মাধ্যমে সরকার পতন ঘটানো হয় সেই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বিলুপ্ত ছাত্র শক্তির সদস্য সচিব।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে দল গঠনের আগেই পদত্যাগ করতে পারেন নাহিদ ইসলাম। তবে সরকারে থাকা অন্য দুই ছাত্র প্রতিনিধি এখনই পদত্যাগ করছেন না। নির্বাচনের আগে আগে তারা পদত্যাগ করবেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের টাইম টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যান ডব্লিউ মোজেনা বলেছিলেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটতে পারে। আবার পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। এটা হতেও পারে, না-ও হতে পারে।
ড্যান ডব্লিউ মোজেনা আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশে আমি বহুদলীয় (রাজনৈতিক) প্রক্রিয়া সমর্থন করি। কয়েক দশক ধরে এখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। এটা ভাঙা উচিত। এ জন্য প্রয়োজন অর্থপূর্ণ সংস্কার।
যুক্তরাষ্টের সহায়তায় এই প্রক্রিয়ায় নুতুন কিছু থাকতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে অনেক ‘এলিমেন্ট’ আছে। আপনি জানেন, আমি জানি সেখানে পুনরেকত্রীকরণে আমরা সহায়তা করতে পারি। আমরা সেখানে গঠনমূলক সহায়তা করতে পারি।
যদিও গত ৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন দল আসছে কি-না তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে কমিটি দেয়া শুরু করে। গঠন করা হয় জাতীয় নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটিও থানা পর্যায় পর্যন্ত কমিটি দিচ্ছে। মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, নাগরিক কমিটি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন দল গঠিত হবে। শুরুতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দলের আবির্ভাব অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা। ৫ আগস্টের পরেও কয়েকটি দল আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে অতীতে দেখা গেছে; খুব কম দলই রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে পেরেছে। ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল বড় কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারবে কি-না সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এ দল নিয়ে এরইমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের আন্দোলনে মার্কিন ডিপ স্টেটের ‘হাত’, ট্রাম্পের সমর্থন
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার হটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন বিপুল অর্থ ঢেলেছে বলে জানালেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৭ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ অ্যাকাউন্টে’-এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফাউন্ডেশন অব ফ্রিডম অনলাইনের নির্বাহী পরিচালক মাইক বেঞ্জ টকশোতে বলেন- এনইডি (ন্যাশনাল এনডৌমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি), আইআরআই (ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট) ও ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করেছে।
বর্তমানে ফাউন্ডেশন অব ফ্রিডম অনলাইন ট্রাম্প সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ থিংকটাংক হিসেবে প্রভাব বিস্তার করছে।
ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেট বাংলাদেশে অর্থ খরচ করে এলজিবিটি গ্রুপ ও উগ্রবাদী ছাত্রদের ব্যবহার করে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন সরকারকে ফেলে দিয়েছে।
ট্রাম্পের ট্রুথ অ্যাকাউন্টের পোস্ট:
ভিডিওতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের এই মিশনে সহয়তা করেছে এনইডি, আইআরআই এবং ইউএসএআইডি। এ তিন সংগঠনের মাধ্যমে কীভাবে সরকার উৎখাত করেছে, তার বিশদ বর্ণনাও দিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা মাইক বেঞ্জ।
