সংবাদ প্রতিবদেন
কারাবন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। দেশের কয়েকটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর মিছিলে এবার যুক্ত হলেন খুলনার এক আওয়ামী লীগ নেতা।
মৃত আক্তার শিকদার খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কারাগারে যাওয়ার ১৩ দিনের মাথায় খুলনায় বন্দী অবস্থায় তিনি মারা যান।
রোববার দুপুরে খুলনা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এসময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পড়ুন: পাঁচ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র মানবাধিকার প্রতিবেদনে
জানা যায়, ২০১৮ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলালের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে গত ৪ঠা নভেম্বর তেরখাদা থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার আসামি ছিলেন তিনি।
আক্তার শিকদার গত ২৭শে জানুয়ারি খুলনার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আক্তার শিকদার দুপুরের দিকে মারা গেলেও ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে রাত সাড়ে ৮টার পর।
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. আবু সায়েম বলেন, বেলা দেড়টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আক্তার শিকদার। এরপর তাকে প্রথমে কারাগারের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোকের কারণে আক্তার শিকদার মারা গেছেন। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে আক্তার শিকদারের লাশ হস্তান্তর করা হবে।
আক্তার শিকদারের চাচাতো ভাই মিলন শিকদার বলেন, তেরখাদা থানায় হওয়া একটি মামলায় আক্তার শিকদারসহ আরও ১০-১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে গত ১৩ দিন ধরে খুলনার কারাগারে ছিলেন আক্তার শিকদার।
স্বজনদের দাবি, কারাগারে আক্তারের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেই নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন স্বজনরা।
এদিকে সুরক্ষিত কারা-অভ্যন্তরে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবরে জনমনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে আশঙ্কাজনক তথ্য।
পড়ুন: একমাসে বগুড়া কারাগারে ৪ নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের উদ্বেগ
মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে ৬৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন কয়েদি এবং ৪২ জন হাজতি। বিশেষত বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথিত হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
