❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
মেহেরপুরের গাংনীতে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত কয়েকটি কুশপুতুল বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিল কেউ।
আজ ২৭শে জুলাই, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংলগ্ন একটি খুঁটি ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা কুশপুতুল দেখে স্থানীয়রা।
এলাকার লোকজন সকালে হাঁটতে বেরিয়ে স্কুলের সামনে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে কয়েকটি কুশপুতুল ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ সময় পুলিশ সদস্যের অত্যন্ত চিন্তিত দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রতক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কুশপুতুলগুলোতে জামায়াতের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সাংসদ হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার ছবি ছিল। ুতুলের শরীরে লেখা ছিল, ‘তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিলো রসাতলে। এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন।’
আজ সোমবার বিকেলে গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এনপিসিপির পদযাত্রা রয়েছে। পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটতে পারে ধারণা এনসিপির স্থানীয় নেতাদের।
তবে স্থানীয়দের কারো কারো ধারণা, পদযাত্রার আগে এটা এনসিপি নেতাদের স্টান্টবাজি। মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করে তোলার উদ্দেশ্যে নিজেরাই এই কাজটি করেছে।
আবার এমনও হতে পারে, আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর দোষ চাপাতে কাজটি করেছে তারা, বলেন কয়েকজন।
স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীদের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান কেমন এলাকায়, জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন- এখানে প্রকাশ্যে লীগ কর্মীদের কর্মসূচি তেমন দেখা যায় না। তবে তারা আছে ঠিকই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।
লেবু বিক্রেতা আব্দুল হালিম জানান, আওয়ামী লীগ যদি এদের(এনসিপি নেতা) ঝোলায়, তবে সেটা আইনের মাধ্যমে সত্যি সত্যি ঝোলাবে। পুতুল ঝোলাবে না। এসব এনসিপির কর্মীদের কাজ। শেখ হাসিনা আসার ঘোষণা দিছে, এটা শুনেই ওদের *** (প্রকাশ অযোগ্য) কাঁধে উঠে গেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী শাকিল আহমেদ বলেন, এনপিসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য কুশপুতুল ঝুলিয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী সদস্যরা ব্যবস্থা নেবে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এটি করতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
