‘চলুন একসঙ্গে কাজ করি’, ভারতের কাছে আর্জি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদের

‘চলুন একসঙ্গে কাজ করি’, ভারতের কাছে আর্জি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুহাম্মদ ইউনূস ৮ আগস্টে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নেওয়ার পরে থেকেই ভারতকে এক হাত নিতে শুরু করেন। কিন্তু ভারতের কৌশলী পদক্ষেপে পরাস্ত হয়ে ক্রমশই নতজানু হতে থাকেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘আমেরিকান ডীপ স্টেটের পুতুল অন্তর্বর্তী সরকার’।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হাসান দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ভারতের কাছে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আর্জি জানিয়ে একটি কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার যে ধারা শুরু হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে একই ফ্রেমে ছবি তোলার জন্যে। এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ভারতের কাছে নরেন্দ্র মোদীর সাথে ছবি তোলার আবদার জানিয়েছিলেন।

তিনি লিখেছেন, আমরা জানি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তবে হাজারো মাইলের যাত্রা ছোট একটি পদক্ষেপের মাধ্যমেই শুরু হয়। প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা কি পারি না এ অঞ্চলের সব নেতার পরবর্তী কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে একটি ছবি তুলতে, যা আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের সদিচ্ছা প্রকাশ করবে?’

তবে এ বিষয়ে ভারতের কাছে থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি লিখেছেন, অন্তর্র্বর্তী সরকার সার্ক জোটকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সংস্থার কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই।

তিনি আরও লিখেছেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং আমি ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। ইতিবাচক দিকগুলোকে মাথায় রেখে ভুল বোঝাবুঝি ও সমস্যাগুলো নিরসনের মাধ্যমে আমরা যথাযথ গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে ইচ্ছুক। আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট: আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি ভালো কাজের সম্পর্ক চাই। আমরা আশা করি ভারতও বাংলাদেশের এই ইচ্ছায় সম্মতি জানাবে।

ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সফর ‘ইতিবাচক উদ্যোগ’ ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ভারতে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূস প্রবর্তিত এখানকার ক্ষুদ্রঋণ মডেলগুলো বিশ্বব্যাপী শিল্পের সৃষ্টি ও বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে। ভারতেও এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

তবে ভারতের বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। যেসব হিন্দু আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত তাদের উপরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, সাম্প্রতিককালে মৎস্যজীবীদের বিনিময় এবং নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির ত্রিপক্ষীয় চুক্তি। এই ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে এমন একটি অংশীদারিত্ব তৈরি করতে হবে, যা দুই দেশের মানুষ, এই অঞ্চল ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

Visited 124 times, 1 visit(s) today