নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি: দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নাট্যকার মাসুম রেজার নাটক শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ করতে না দেওয়ায় এখনো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন তিনি। সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি শুধু তার নাটকের ওপর নয়, বরং সমগ্র শিল্পচর্চার ওপর আঘাত।
মাসুম রেজা জানান, তার নাটকের একজন অভিনয়শিল্পীর ফেসবুক পোস্টের কারণে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে ব্যানার টাঙিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। পরে নাটকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা বিক্ষোভ করেছে, তারা জানতোই না নাটকটি কোথায় মঞ্চস্থ হচ্ছে, কী বিষয়বস্তু। তাহলে তারা কীভাবে এলো?”
তিনি আরও জানান, ঢাকার বাইরেও অন্তত ২২টি শিল্পকলা একাডেমিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিল্পকলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকায় সেখানে অগ্নিসংযোগ হয়নি। তবুও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সাক্ষাৎকারে মাসুম রেজা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নাটক বন্ধের ঘটনায় কোনো উদ্যোগ নেননি। তিনি বলেন, “ফারুকী আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুই করেননি, ফোন পর্যন্ত করেননি। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়াও, তিনি অভিযোগ করেন যে, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদকে ‘ট্যাগ’ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি নিজে সরাসরি প্রতিবাদ করায় তাকে কেউ দমানোর চেষ্টা করেনি।
সাক্ষাৎকারে মাসুম রেজা বলেন, অপু বিশ্বাসের রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন বন্ধ করা, পরীমনির শোরুম উদ্বোধন করতে না দেওয়া এবং নারী ফুটবলারদের খেলায় বাধা দেওয়ার ঘটনা বৈষম্যের নতুন রূপ। “বর্তমান সরকার বৈষম্যহীনতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে মব ভায়োলেন্স চলছে,” বলেন তিনি।
এছাড়াও, তিনি ইসলামপন্থী একটি দলের অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশবিরোধী চেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘটনার পর নিন্দা জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন মাসুম রেজা। তিনি বলেন, “আমার নাটক বন্ধ হলে আমি প্রতিবাদস্বরূপ আবার মঞ্চে নাটক করেছি। সরকার ও ফেডারেশনের নিন্দা তখনই যথার্থ হবে, যদি তারা নারীদের ফুটবল খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় এবং দোষীদের শাস্তি দেয়।”
একের পর এক নাট্যচর্চার ওপর আঘাত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নীরবতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি শঙ্কিত। তার মতে, “যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে আমরা আমাদের বাংলাদেশকে হারিয়ে ফেলবো।”
