বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্ট সদস্যের উদ্বেগ

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্ট সদস্যের উদ্বেগ
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুইডিশ পার্লামেন্ট সদস্য কাদির কাসিরগা।

গতকাল ২৯ নভেম্বর শুক্রবার, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে সুইডিশ পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত একান্ত বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সময়কালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নজরুল ইসলাম। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগের নেতা খালেদ আহমেদ চৌধুরী, ড. ফরহাদ আলী খান, মঞ্জুরুল হাসান, হাফিজুর রহমান, সৈয়দ বজলুল বারী এবং ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

প্রতিনিধিরা সুইডিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন, যেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনূস সরকারের মদদে জামায়াত, শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা, লুটতরাজের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া, স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ইউনূস সরকার দেশের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ও ১৫ই আগস্টসহ ৮টি জাতীয় দিবস বাতিল করেছে। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের পর এবার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র করছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিনিধিরা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তারা সুইডিশ সাংসদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেন।

বৈঠকে কাদির কাসিরগা প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করি এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড কখনোই সফল হতে পারে না।”

এসময় তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান।

Visited 76 times, 1 visit(s) today