আবারও নাট্যকর্মীদের ওপর হামলা, শিল্পকলা একাডেমি রণক্ষেত্রে পরিণত

আবারও নাট্যকর্মীদের ওপর হামলা, শিল্পকলা একাডেমি রণক্ষেত্রে পরিণত
শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটকের সামনে নাট্যকর্মীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২রা নভেম্বর শিল্পকলায় নাটক বন্ধ করা এবং মঞ্চ পুড়িয়ে দেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তারই প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

জানা যায়, ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের এই সমাবেশ পণ্ড করতে একদল বহিরাগত হঠাৎ এসে হামলে পড়ে। তারা নিজেদের সাধারণ ছাত্র-জনতা পরিচয় দিয়ে এই হামলা চালায় লাঠিসোটা নিয়ে।

যখন সন্ধ্যায় সমাবেশ চলছিল, সেসময় একদল ‘বহিরাগত’ এসে নাট্যকর্মীদের ওপর এভাবে নির্লজ্জ হামলা চালায়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাট্যকর্মীরা রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণ এগিয়ে আসেন।

ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চলার সময় যখন নাট্যকার মামুনুর রশীদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখন একটি দল উল্টো দিক থেকে এসে তাদের ওপর ঢিল-পাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নাট্যকর্মীদের ওপর ডিমও ছোড়ে।

তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। তারা নিজেদের ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের’ সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়। তাদের দাবি ছিল তারা শিল্পকলায় কাউকে নাটক করতে দেবে না।

কামাল বায়েজিদ আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নাট্যকর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তারা আক্রমণ চালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা নাট্যকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছেন, লাঞ্ছিত করছেন। এ নিয়েও প্রতিবাদ জানান নাট্যকর্মীরা।

নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটে জানিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, তাহলে তারা কী নিরাপত্তা দিয়েছে আমাদের। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হামলাকারীরা রাত ৮টা পর্যন্ত সেগুনবাগিচা এলাকায় অবস্থান করছিল বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়।

নাট্যকর্মী লাকী ইনাম বলেন,

আমরা সবাই ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে’ সম্পৃক্ত ছিলাম, আমরা সংস্কৃতিচর্চায় বৈষম্যহীনতা চেয়েছিলাম, শিল্পীদের শিল্পচর্চার স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। কিন্তু এই কি স্বাধীনতা? এটা তো চাইনি!

নাট্যকার মাসুম রেজা বলেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে হামলা করল। আমরা নাট্যকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এটি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এদের ভয়ে নাটক বন্ধ হবে না। আমরা প্রতিদিন নাটক করব। এখানে পুলিশ থাকলেও তারা কেন কাউকে আটক করতে পারলেন না?

 

শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমীন প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, শিল্পকলা একাডেমির এই প্রতিবাদ সমাবেশের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সমাবেশটি একটি নাট্যসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ছিল।

বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অনন্ত হীরা বলেন, আমর সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি করব। আমাদের সমাবেশ শেষভাগে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এই কাজটি করেছে।

ফেডারেশনের সেক্রেটারি কামাল বায়েজিদ জানান, হামলার ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় শিল্পকলা একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। আমরা ৭ দিন সকল সাংস্কৃতিক আয়োজনে কালো ব্যাজ ধারণ করব।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১৫ই নভেম্বর সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ফেডারেশন। তারা জানান, প্রদর্শনী শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশস্থলে অবস্থান করবেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ, দেশ নাটকের দলপ্রধান মাসুম রেজা, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২রা নভেম্বর দেশ নাটকের ‘নিত্যপূরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী চলাকালে কিছু ব্যক্তি নাটক বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষ নাটকটি মাঝপথে বন্ধ করে দেয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এই সমাবেশের আয়োজন করে।

Visited 19 times, 1 visit(s) today