আড়াইহাজার থানা ও নৌপুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় বিএনপি নেতা অনু গ্রেপ্তার

আড়াইহাজার থানা ও নৌপুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় বিএনপি নেতা অনু গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন সারা দেশে যে পরিকল্পিত সহিংসতা, থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, তার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আড়াইহাজার থানা ও খাগকান্দা নৌপুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ব্যাপক লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অবশেষে জেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন অনুকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ নিশ্চিত করেছেন যে, গত ১৫ মে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আনোয়ার হোসেন অনুকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে এই বিএনপি নেতা কারাগারের অন্ধকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের দিন বিকেলে আড়াইহাজার থানায় একদল উগ্রপন্থী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অস্ত্র ও আসবাবপত্র লুটপাট এবং পরিশেষে পুরো থানায় অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় ২৩ আগস্ট থানার এসআই রিপন মৃধা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার দুষ্কৃতিকারীকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্তে এই তাণ্ডবের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততা ও উসকানির প্রমাণ মেলায় আনোয়ার হোসেন অনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এছাড়া, একই সময়ে খাগকান্দা নৌপুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা এবং গত ১৩ মে উপজেলার মুকুন্দি এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক নারীর বাড়িঘরে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া নিয়মিত মামলাতেও অনুকে আসামি করা হয়েছে। ওই চাঁদাবাজি ও হামলার মামলায় অনুর স্ত্রী তথা মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তারসহ ১৬ জন এজাহারনামীয় আসামি।

স্বামীর গ্রেপ্তার ও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বরাবরের মতোই রাজনৈতিক বিরোধের পুরোনো অজুহাত তুলছেন অনুর স্ত্রী পারভীন আক্তার। তিনি দাবি করেছেন, তারা নাকি উল্টো তৎকালীন ওসি আহসান উল্লাহসহ পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে গিয়েছিলেন।

তবে পুলিশ প্রশাসন এই খোঁড়া যুক্তি ও দায় এড়ানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং ৫ আগস্টের থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে আনোয়ার হোসেন অনুর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পরই তদন্তকারী কর্মকর্তার সুপারিশে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে থানা লুটের যে অপসংস্কৃতি বিএনপি-জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তৈরি করেছিল, আড়াইহাজারের এই গ্রেপ্তার তারই একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক পদক্ষেপ।

Visited 10 times, 1 visit(s) today