বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কথিত এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্থানীয় ওই কথিত বিএনপি নেতা ও তার অনুসারী একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই নৃশংস হামলার ঘটনার পর থেকে মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, অতীতেও বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘ক্যাডার বাহিনী’ বা গুন্ডামি সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, বর্তমান সময়েও কিছু কথিত নেতার কারণে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, ইতিহাসের শিক্ষা হলো, জনগণের ওপর অত্যাচার করলে কোনো শাসক বা দলের শেষ রক্ষা হয় না। বর্তমান প্রশাসন যদি এখনই এসব উগ্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন না করে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সমাজ থেকে এমন রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও গুন্ডামি চিরতরে নির্মূল করতে অতীতে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো একটি কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
এদিকে, এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#
