চট্টগ্রামে মাদ্রাসায় দুই শিশু সহোদরাকে ধর্ষণচেষ্টা, শরীয়ার পক্ষে সোচ্চার শিক্ষক গ্রেপ্তার!

চট্টগ্রামে মাদ্রাসায় দুই শিশু সহোদরাকে ধর্ষণচেষ্টা, শরীয়ার পক্ষে সোচ্চার শিক্ষক গ্রেপ্তার!
শেয়ার করুন

 

বাকলিয়ার সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশু নির্যাতনের ঘটনা, উত্তাল চট্টগ্রাম

❐ নিজস্ব প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। বাকলিয়ার সংঘর্ষময় ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর তিনটি ভিন্ন এলাকায় ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার নতুন তিনটি অভিযোগ সামনে এসেছে।

ঘটনাগুলোয় ভুক্তভোগীরা সবাই শিশু এবং বয়স সর্বোচ্চ সাত বছর।

মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে। খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদসংলগ্ন মক্তবে দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে তাদেরই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল বাতেনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি কুমিল্লায়, তবে শিক্ষকতার সুবাদে তিনি ওই এলাকাতেই বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে আব্দুল বাতেন নিজেই এলাকাবাসীকে শরীয়া আইনের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর আগেও তিনি দেশে শরীয়া আইন চেয়ে এলাকায় প্রচার চালান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই বোনের বয়স ১০ ও ৬ বছর, এবং উভয়েই তার ছাত্রী ছিল।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী দুই বোনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

১০ টাকার প্রলোভনে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার

একই দিন শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনাটি জানালে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।

মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান বায়েজিদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল।

হাজীপাড়ায় সাত বছরের শিশু ধর্ষণ, পুলিশ দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন তারা।

প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশ ও অভিযুক্ত উভয়কেই হাজীপাড়ায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়। পরে বিচারের আশ্বাস দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

বাকলিয়ায় রণক্ষেত্র, আহত ৩০

এই তিনটি ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেল পাঁচটা থেকে মধ্যরাত দুইটা পর্যন্ত প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ চলে।

পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে তুলছে যে, চট্টগ্রাম নগরে শিশুরা কতটা অরক্ষিত।

পরিচিত শিক্ষক থেকে পাড়ার যুবক — কোনো পরিচয়ই এখন আর শিশুর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। জনরোষ ও আতঙ্কের এই পরিবেশে কার্যকর বিচার ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি এখন নগরজুড়ে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today