ছাত্রকে ধর্ষণের পর গোসল ছাড়াই ফজর নামাজের ইমামতি করেন হেফাজত-খেলাফত মজলিস নেতা

ছাত্রকে ধর্ষণের পর গোসল ছাড়াই ফজর নামাজের ইমামতি করেন হেফাজত-খেলাফত মজলিস নেতা
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইমাম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হেফাজতে ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পদধারী নেতা।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫) উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। তিনি শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম এবং দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। পাশাপাশি উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি এবং হেফাজতে ইসলামের উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক।

ভুক্তভোগী ছাত্র জানায়, গত ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে অভিযুক্ত ইমাম মাথাব্যথার কথা বলে তাকে মাথা টিপে দিতে বলেন। পরে তাকে এশার নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দেন। নামাজ শেষে ইমাম নিজ বাড়িতে দাওয়াতের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে জানিয়ে আসতে বলেন। রাতে ওই বাড়িতে যাওয়ার পর পেট ব্যথার ছলে ছাত্রকে দিয়ে মালিশ করান। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানায় ওই ছাত্র।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের সময় ইমাম তাকে মোটরসাইকেলে করে মসজিদে নিয়ে যান। এরপর গোসল না করেই নামাজে ইমামতি করেন। নামাজের পরও তাকে দিয়ে পা টেপান।

বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে ওই ছাত্র।

ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার সন্তানের সঙ্গে যা ঘটেছে, ভবিষ্যতে যেন অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ উছমান গনি জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছে। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 9 times, 9 visit(s) today