স্বামীকে কারামুক্ত করার আশ্বাসে স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতা হযরত আলীর

স্বামীকে কারামুক্ত করার আশ্বাসে স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতা হযরত আলীর
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কারাগারে থাকা স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর (৪৫) বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা হযরত আলী মণ্ডলের (৩৫) বিরুদ্ধে।

গত ২০শে অক্টোবর উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান কর্মকারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত আলী ওই ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ঘটনাটির পর বৃহস্পতিবার, ৩০শে অক্টোবর, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফুলবাড়িয়া থানায় দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী। এরপরই ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্ত হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলার প্রধান আসামি হযরত আলী ওই ইউনিয়নের বৈলাজান মণ্ডলবাড়ির বাসিন্দা মো. জয়নাল মণ্ডলের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রচার চালাচ্ছেন; নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

মামলার অন্য আসামি মো. খোরশেদ আলী ওরফে হাসমত আলী (৪৫)। তিনি হাতিলেইট বুড়ার বাজার এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মারামারির একটি মামলায় গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী গ্রেপ্তার হন। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাকে মুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হযরত আলী ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে।

দুজনকে পূর্বপরিচিত উল্লেখ করে মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, “দীর্ঘদিন থেকেই হাসমত আলীর সহযোগিতায় হযরত আলী আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছে। আমি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা হুমকিও প্রদর্শন করে আসছে। এর আগেও হযরত আলী আমার ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করেছে। এই বিষয়ে ভিডিও আছে।”

এজাহারে তিনি আরও বলেন, গত ২০শে অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে দুই আসামি তার ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে হযরত আলী তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুজন সেখান থেকে পালিয়ে যান।

মুঠোফোনে কথা বলার সময় ওই নারী জানান, স্বামীকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে হযরত আলী নিয়মিত তাদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি কয়েকবার সেখানে যান। একপর্যায়ে স্বামীকে মুক্ত করার কথা বলে ওই নারীকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি রাজি না হলে ঘরে ঢুকে তাকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই নারী বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে আগে থেকেই মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ চালু করেছিলেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যেন প্রমাণ থাকে, সেই আশঙ্কায় তিনি তা করেছিলেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। স্বামীকে মুক্ত করতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন; পরে আইনজীবীর মাধ্যমে গত সোমবার তার স্বামীর জামিন হয়। হযরত আলীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন ওই নারী।

তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হযরত আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today