❐ জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার সময় এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের কাছে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তি গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা। গত এক বছরে উপজেলায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগের মধ্যে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, গভীর রাতে উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
আটক ব্যক্তির নাম মো. মনির মীর। তিনি গণঅধিকার পরিষদের গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাবেক ইউপি সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন জেলে নলুয়াবাগী গ্রামের একটি সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথটি সাবেক ইউপি সদস্য মনির মীরের বাড়ির কাছ দিয়ে গেছে। সেখানে তারা এক ব্যক্তিকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করতে দেখেন।
জেলেদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাকে কাছের পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়.
পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সময় স্থানীয়রা মনির মীরকে হাতেনাতে আটক করেন। তার কাছ থেকে রেঞ্চ, প্লায়ার্স, রড, কাটিং প্লায়ার্স ও মিনি রোলকাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
একটির পর একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন জানান, দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। এর ফলে সেখানকার ২৫টি পরিবার প্রায় এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ পায়নি।
গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়ার ভাষ্য, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে এ ধরনের ৬০ থেকে ৬৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী না হলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকেই মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
