ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ১২ শতাংশ জমি দিয়ে জনরোষ থেকে মুক্তি চান মাদ্রাসা শিক্ষক

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ১২ শতাংশ জমি দিয়ে জনরোষ থেকে মুক্তি চান মাদ্রাসা শিক্ষক
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে।

আদালতের প্রশ্নের জবাবে প্রধান আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর জানান, তার মাত্র ১২ শতাংশ জমি আছে। মামলায় অব্যাহতি পেতে এবং স্থানীয়দের জনরোষ থেকে মুক্তি পেতে নিজের সব সম্পদ ছেড়ে দিতেও তিনি রাজি বলে আকুতি জানান।

২৮শে অক্টোবর, বুধবার নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আগামী ১১ই নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানির সময় বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে আসামি সাগর তার ১২ শতাংশ জমির কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজের জীবনের সব সম্পদের বিনিময়ে হলেও গুরুতর এ মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার আবেদন জানান।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের প্রসঙ্গ তুলতে চাইলে বিচারক তা কঠোরভাবে নাকচ করেন। বিচারক বলেন, তারা কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক জানতে চান, ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরা ছিল কি না। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতকে জানান, শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল।

এর আগে সিআইডির ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএর মিল ৯৯.৯৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে এই ফলের ভিত্তিতে নবজাতকের পিতৃত্ব নিশ্চিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদন এবং পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, “রায়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি আজ শেষ হয়েছে। ১১ই নভেম্বর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আমি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। আমরা মনে করি, মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার সব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে বলে আমরা আশা করছি। আসামি সর্বোচ্চ সাজা পাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

Visited 4 times, 1 visit(s) today