‘আলুর এত দাম হইলে খামু কী? আলুও কি আমরিকা থিকা আসে?’

‘আলুর এত দাম হইলে খামু কী? আলুও কি আমরিকা থিকা আসে?’
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক:

‘আলুর এত দাম হইলে, খামু কী? আলুও কি আমরিকা থিকা আসে?’

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ক্রমবর্ধমান আলুর দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। এক সময় চালের দামের চাপ কমাতে যে আলু খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হতো, সেই আলুই এখন মাত্রা ছাড়া বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা চালের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মোটা চালের কেজি ৫২-৫৫ টাকা এবং চিকন চাল ৬৮-৮০ টাকা হলেও, বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কোথাও কোথাও আরও বেশি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, কেরানীগঞ্জের আগানগর ও জিনজিরা ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গত মাসের তুলনায় এ দাম ২২.৩৩ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় ৪২.১১ শতাংশ বেশি। ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলুর বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ফুটপাতে ভ্যানগাড়ি থেকে সব্জি কিনতে আসা ক্রেতা শফিকুর রহমান ক্ষোভের সাথে জানালেন, আলুর এত দাম হইলে, খামু কী? আলুও কি বিদ্যাশ থিকা আসে?

প্রতিবেদকের সাথে কথায় তার আক্ষেপ ঝরে পড়ল। বললেন, আশা করছিলাম, দেশে বিপ্লব হইছে, এইবার জিনিসপাতির দাম কমবো। কিন্তু কোথায় কী? উল্টা বাইড়া গেছে চারগুণ-পাঁচগুণ। আগে নাকি সিন্ডিকেট বাজার-টাজার সব খায়া ফেলছিল, এখন কে খায় বুঝিনা। মালের দাম বেশি ক্যান জিগাইলে ব্যবসায়ীরা কয় বিদ্যাশ থিকা আসে। ডলারের দাম বেশি, তাই দাম বাইড়া গেছে। তা হইলে আলুর দাম বেশি হইব ক্যান? আলুও কি আমরিকা থিকা আসে? আমরা বাঁচমু কী খায়া?

আরেক ক্রেতা মাসুদ শিকদার বলেন, আলুর দাম লাগামহীন। কয়দিন আগে কিছুটা কমলেও এখন আবার বাড়ছে।

অদিতি তালুকদার জানান, মধ্যবিত্তের জন্য এক কেজি আলু ৭০ টাকা দিয়ে কেনা বাড়তি চাপ। দাম কমাতে আমদানি ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আলু আগেও আমদানি হয়েছে, তাই বলে এই দামে বিক্রি হওয়ার কথা না।

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫৪-৫৫ টাকার পরিবর্তে এখন ৬০-৬২ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ছে।

আড়তদারদের দাবি, কোল্ড স্টোরেজগুলো থেকে পর্যাপ্ত আলু পাওয়া যাচ্ছে না বলে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

শ্যামবাজারের মুর্শিদ ভাণ্ডারের মালিক হাসান আহমেদ জানান, প্রতি বছর মৌসুম শেষে আলুর দাম বেড়ে যায়, নতুন আলু বাজারে এলে দাম কমতে পারে। বিক্রমপুরের আলু বর্তমানে ৫৮-৬০ টাকায় এবং রাজশাহীর আলু ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোলেমান জানান, আমদানি চলমান থাকায় আলুর দাম কিছুটা কমেছে। তবে কোল্ড স্টোরেজগুলোতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান চালালে আরও দাম কমার সম্ভাবনা ছিল।

এদিকে মুন্সিগঞ্জের কোল্ড স্টোরেজগুলো জানিয়েছে, তাদের হিমাগারে এখনো প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত আছে, যা হিমাগার গেটে ৫০ টাকা এবং খুচরায় ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৭১টি ট্রাকে ১৮ হাজার ২০০ মেট্রিক টন আলু আমদানি হওয়ায় বাজারে দাম স্থিতিশীল হওয়ার আশা রয়েছে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today