যানজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাল নগরবাসী

যানজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাল নগরবাসী
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক:

রাজধানীর সড়কে যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যমে কাজ করছেন ৬৬ জন শিক্ষার্থী, যারা ট্রাফিক পুলিশের পার্ট-টাইম সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। মঙ্গলবার থেকে এই তরুণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে শিফট ধরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ ঢাকা শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে একটি নতুন এবং ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতিমধ্যে নগরবাসী এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনুৎপাদনশীল কাজে সময় নষ্টের চেয়ে বরং শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে তাদের এই উদ্যোগ আশাবাদী করে তুলছে ঢাকাবাসীকে।

ফার্মগেট, বিজয় সরণি, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ এবং মৎস্য ভবন মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা প্রতিদিন দুই শিফটে ৪ ঘণ্টা করে ডিউটি করছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভাগ করা এই শিফটে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষার্থীদের এক দিনের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

শাহবাগ মোড়ে দায়িত্বে থাকা ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স-এর এক শিক্ষার্থী জানান, “এই কাজটি করতে আমার খুব ভালো লাগছে। নগরবাসীর জন্য কিছু করতে পারছি, এটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। ৪ ঘণ্টার ডিউটি; এতে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বরং এটি আমাকে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে।”

ফার্মগেট পুলিশ বক্সের কাছে দায়িত্বে থাকা আরেক শিক্ষার্থী মজিদ বলেন, “৫ই আগস্টের পর রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ কম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। এখন আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছি, এটি আমার জন্য আনন্দের।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬৬ জন শিক্ষার্থী এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। তবে শিগগিরই এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডিউটি শেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, যা তাদের জন্য একটি সম্মানসূচক পারিশ্রমিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. মহসিন চৌধুরীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত করা সমাজে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করবে। সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তারা সামাজিক দায়িত্বশীলতার শিক্ষা পাচ্ছেন, যা ওদের ভবিষ্যৎ জীবনে কার্যকরী হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবার মনোভাব ও দায়িত্বশীলতা তৈরি করবে। তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শিখবে এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়াও ঢাকা শহরে যে বিশাল যানজট সমস্যা রয়েছে, তার কিছুটা হলেও প্রশমন হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।

সড়কে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করে যান চলাচলকে আরও স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছেন নগরবাসী।

এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইতিবাচক কাজে স্বপ্রণোদিত করতে পারে বলে মনে করছেন ড. মহসিন চৌধুরী। শহরের ট্রাফিক সমস্যায় কার্যকরী সমাধানে এবং সমাজসেবামূলক কাজেও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা যেতে পারে। যানবাহনের সঠিক পার্কিং ব্যবস্থা, পথচারীদের পথচারী সেতু ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা ইত্যাদি কাজেও তাদের ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা যেতে পারে, এমনটাই অভিমত এই বিশেষজ্ঞের।

প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, এমন কয়েকজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের।

বায়িং হাউজের ব্যবসায় সম্পৃক্ত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরীফুল হাসানের মতে, শিক্ষার্থীদের এই পার্ট-টাইম ডিউটি আরও বিস্তৃত করলে ঢাকাবাসী উপকৃত হবে। সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যা তাদের হাতখরচ চালাতে সহায়ক হবে। তাছাড়া নতুন প্রজন্মের জন্য এটা একটা উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরবাসী ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করা হচ্ছে। পথচারীদের মতে, শিক্ষার্থীদের এমন জনসেবামূলক কাজে আরও এগিয়ে আসার প্রয়োজন, যা সমাজে তাদের ইতিবাচক প্রভাব আরও প্রসারিত করতে পারে।

Visited 10 times, 1 visit(s) today