কম খরচে হজ্ব- একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। মুমিন বান্দার আবেগ নিয়ে রাজনীতি!

কম খরচে হজ্ব- একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। মুমিন বান্দার আবেগ নিয়ে রাজনীতি!
শেয়ার করুন

কম খরচে হজ্বঃ একটি শুভঙ্করের ফাঁকি।

এই কম খরচের হজ্ব করতে পারার ঘোষনা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সাথে প্রতারনার সামিল। আদতে খরচ কমেনি কিছুই, কিন্তু দুর্ভোগ বেড়েছে। হজ্ব বাঙালি মুসলমানের খুব আবেগের একটি জায়গা। হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসল্লি সারাবছর সঞ্চয় করেন একটিবার হজ্ব করতে যাবার জন্য।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ্বে যাবার খরচ কমিয়ে ২০২৫ সালের হজ্ব প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা এ হজ্ব প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছর সরকারি ব্যবস্থাপনার সাধারণ হজ্ব প্যাকেজ সমুহঃ

প্যাকেজ-১ – চার লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা।

প্যাকেজ-২ – পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

এছাড়া বেসরকারি মাধ্যমে সাধারণ হজ্ব প্যাকেজ নির্ধারিত হয়েছে সর্বনিম্ন চার লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। এছাড়াও সাধারণ হজ প্যাকেজ গ্রহণ করে এজেন্সি একটি অতিরিক্ত বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। অবস্থাশালী ব্যাক্তিরা নিজেদের স্বচ্ছলতা আর শৌখিনতার হিসাবে ১৪ থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত খরচ করে  আরামে ক্বাবা ঘরের কাছাকাছি থেকে হজ্ব পালন করে থাকে।

উপদেষ্টার ঘোষণা অনুসারে, সরকারি প্যাকেজ-১-এ হজ্বের খরচ কমেছে এক লাখ নয় হাজার ১৪৫ টাকা। আর সরকারি প্যাকেজ-২-এ কমেছে ১১ হাজার ৭০৭ টাকা।

বাস্তবতা হলো, হজ্বে এই প্যাকেজে কিছু আনুষাংগিক খরচ গোপন রাখা হয়েছে বা প্যাকেজের বাইরে রাখা হয়েছে। যেমনঃ

হজ্বের আবাসন হবে ক্বাবা শরীফ থেকে থেকে ৩ কি:মি দূরে। কুরবানীর জন্য ৭৫০ রিয়াল বা ২৫ হাজার টাকা আলাদাভাবে সঙ্গে নিতে হবে। এবং খাওয়ার খরচের জন্য জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা সাথে বাড়তি নিয়ে যেতে হবে।

(যদিও অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে জনপ্রতি খাবার খরচ ৬০ হাজারের নীচে সংকুলান করা কঠিন)

উক্ত খরচ সমুহ হিসাব করলে জনপ্রতি হজ্বের সর্বনিম্ন খরচ এর কোন হেরফের হয়নি, বরং হাজ্বিদের দুর্ভোগ বাড়লো আগে থেকে। গত বছর সরকারী ব্যাবস্থাপনায় হাজ্বিদের আবাসন ছিল দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। হজ্বের সময় তীব্র জ্যাম আর সারাদিনের জন্য হজ্ব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হাজ্বিদের সাধারনত সারাদিনে হোটেলে বা আবাসনে ফেরার সুযোগ থাকে না। তবুও এতো দীর্ঘ সময় জ্যাম পেরিয়ে ৩ কিলোমিটার দূর থেকে সময়মতো আসতে পারা আর নামাজের জামাত ধরতে পারা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পরবেন এবার হাজ্বিরা।

সংবাদ সম্মেলনে প্যাকেজ প্রতি আরো কিছু সুবিধাদির কথা জানানো হয়। যেমনঃ

পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন। মিনায় গ্রিন জোনে (জোন-৫) তাঁবুর অবস্থান। মিনা-আরাফায় ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিস সুবিধা। মক্কার হোটেল বা বাড়ি থেকে বাসযোগে মিনার তাঁবুতে এবং মিনা-আরাফাহ-মুজদালিফা-মিনা ট্রেনযোগে যাতায়াতের ব্যবস্থা।

মিনা ও আরাফায় মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার পরিবেশন। অ্যাটাচ বাথসহ মক্কা ও মদিনায় বাড়ি বা হোটেলের প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসন। বাড়ি বা হোটেল কক্ষে রেফ্রিজারেটরের ব্যবস্থা। মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা। ৪৬ জন হজযাত্রীর জন্য ১ জন হজ গাইডের ব্যবস্থা।

যদিও চিকিৎসা ব্যাবস্থা সবসময় সৌদি সরকার বিনামূলে দিয়ে থাকে এবং উপরোক্ত সকল সুবিধাদিই আসলে সৌদি সরকার থেকে দেয় ব্যাবস্থাপনার অংশ। এতে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রানালয়ের  বিশেষ কোন অবদান নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা জানান, এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের টাকায় হজে পাঠানোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, অতিথি হিসেবে সরকারী খরচে কাউকে পাঠানো হবে না। তবে হজ্ব ব্যবস্থাপনার কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা যেতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার জানান, পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত প্রাক্‌নিবন্ধন করেছেন ৭৫ হাজার ৫৩৩ জন। আর নিবন্ধন করেছেন ৯ হাজার ২৬৯ জন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে।

Visited 51 times, 1 visit(s) today