নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ৩১শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভরত গার্মেন্টসকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংঘাতে কার্যত রণক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়েছে মিরপুর।
মিরপুর-১৪ ও কচুক্ষেত এলাকার একাধিক কারখানা থেকে হাজারো গার্মেন্টসকর্মী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সড়কে অবস্থান নেয়। তারা চাকুরিচ্যুতি ও একটি স্থানীয় পোশাক নির্মাণ কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ জানান।
শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করলে তাদের দমন করার জন্য যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এতে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যৌথবাহিনী গুলি চালালে দুই পোশাকশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুইটি পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করেন।
গুলিবিদ্ধ দুই পোশাকশ্রমিক হলেন- আল আমিন (১৮) ও ঝুমা আক্তার (১৫)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ বলেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক বিভিন্ন দাবিতে মিরপুর-১৪ নম্বর কচুক্ষেত সড়কে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যৌথবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষ মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়কগুলোর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের লাঠিপেটা করে। পুলিশ একপর্যায়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে।
‘আর্মি গুলি চালিয়েছে শ্রমিকদের ওপর, কয়েকজন মারা গেছে’- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ও পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে জানা যায়, কেউ নিহত হননি, দুজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
আহত আল আমিনের দুই কাঁধে ও ঝুমার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লেগেছে। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। একপর্যায়ে পোশাকশ্রমিকেরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা লিমা খানম বলেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতে লাগা আগুন নিভিয়েছে।
মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিরপুর-১৪ এলাকায় সেনাবাহিনীর পরিবহন মোতায়েন থাকায় সকাল ১১টা পর্যন্ত সেখানে আসা গাড়িগুলোকে আগানোর অনুমতি না দিয়ে ভাষানটেক এলাকার দিকে যেতে বলা হয়। এ সময় শুধু মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ এলাকার মধ্যে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
