❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় শহিদ হওয়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের স্মরণে ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকের নামকরণ করা হয়েছিল ‘রবিউল গেইট’।
তবে বর্তমানে সেখানে গেলে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এটি রবিউল গেইট, কারণ ফটকে থাকা রবিউল করিমের নামফলকটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
নামফলকটি কে, কখন বা কীভাবে সরিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি জানিয়েছেন যে ডিবি গেটের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তবে রবিউল করিমের নামফলকটি কে বা কারা এবং কখন সরিয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, ডিবি কার্যালয় রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত স্থাপনা। সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন এবং ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় থাকে। এমন একটি সুরক্ষিত স্থাপনার প্রধান ফটক থেকে নামফলক সরিয়ে নেওয়া হলেও এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১লা জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশানের অভিজাত রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় নব্য জেএমবির সদস্যরা। সেখানে থাকা দেশি-বিদেশি অতিথিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর র্যাব, সোয়াট, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন।
প্রথম দফায় জিম্মিদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম এবং বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
হামলার পরদিন সকালে ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ভেতর থেকে ২০ জিম্মির লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল জঙ্গিরাও। বিভিন্ন কারগার ভেঙে বের করে আনা হয়েছিল দুর্ধর্ষ ও সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের। তারা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সরকারের পতন ঘটার পরদিনই হলি আর্টিজান বেকারির সামনে স্থাপিত শহিদ পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত ভাস্কর্য ভেঙে সেখানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শহিদ রবিউল করিম ছিলেন পুলিশের ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। পুরনো ছবিতে ডিবি কার্যালয়ের ফটকের ছবিতে ‘রবিউল গেইট’ লেখা নামফলক স্পষ্ট দেখা যায়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ডিবি কার্যালয় ভাঙচুরের সময়েও ফটক ও দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছিল। তবে তখনো ‘রবিউল গেইট’ নামফলকটি অক্ষত ছিল বলে জানা গেছে।
এমনকি ঘটনার প্রায় দুই মাস পরেও নামফলকটি দেখা গেছে।
এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর কোনো এক সময় নামফলকটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সেটি কার নির্দেশে বা কী কারণে করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ডিবি গেটের নামফলক সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসি রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, রবিউল মানুষের মঙ্গলের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। সে কারণেই তাকে সম্মান জানাতে ডিবি গেটের নাম করা হয়েছিল রবিউল গেইট। এখন সেখানে যদি তার নাম না থাকে, বিষয়টি দুঃখজনক।
