বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরণের রদবদল চললেও সম্প্রতি ঢাকা জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে শামীমা পারভীনের নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। একজন দায়িত্বশীল সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও অতীতে সরাসরি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণায় তার অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
শামীমা পারভীনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গাটি হলো তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার শপথ নিলেও তিনি অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন এ ধরণের আচরণ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শামীমা পারভীন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের স্ত্রী। তার পদায়নের খবর আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল নেতাদের উচ্ছ্বাস নতুন বিতর্কের খোরাক জুগিয়েছে। অনেক নেতা তাকে ‘আপা’ বা ‘ভাবী’ সম্বোধন করে পোস্ট দিচ্ছেন। গুঞ্জন রয়েছে, ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীতে পদায়ন ও প্রমোশনের ক্ষেত্রে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে ‘লিঁয়াজো অফিসার’ হিসেবে কাজ করেছেন।
৫ আগস্টের পর তিন মাস পার হওয়ার পর তাকে ঢাকার এসপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার মতো বিতর্কিত ভূমিকার পরও এই ‘ক্রিম পোস্টিং’ মূলত তার রাজনৈতিক আনুগত্যেরই এক ধরণের পুরস্কার। যদিও বকুল-ঘনিষ্ঠরা একে ‘ধৈর্য ও বিনয়ের ফল’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন একজন দলীয় প্রচারণাকারী কর্মকর্তা কীভাবে নিরপেক্ষভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবেন?
পেশাদার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবি যখন জোরালো, ঠিক তখনই এ ধরণের ‘পারিবারিক দুর্গ’ গড়ে তোলার প্রবণতা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাধারণ নাগরিকদের মতে, যদি মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে হয়, তবে পুলিশ বাহিনী পুনরায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর তদারকিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
