সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা মঈনের ৪ সহযোগী গ্রেপ্তার

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা মঈনের ৪ সহযোগী গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিসিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের (মঈন) চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আক্কাস আলী।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২),মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।

এডিসি আক্কাস আলী জানান, শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে এক নাম্বার আসামি করে ও অজ্ঞাত ৭-৮ আট জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ।

এই ঘটনায় মঈন উদ্দিন মঈনের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৪। পরে ওই চার আসামিকে আমাদের থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। এই ঘটনায় মূল আসামি মঈন উদ্দিনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে।

এর আগে, ১১ই এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে এক নম্বর আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামীরা আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ই এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামী মঈন আমার স্ত্রীকে বলে যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেয়।

আমার স্ত্রী আসামীদের চাহিদা মোতাবেক চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করে। এ সময় আমি আসামীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি।

পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে আসামী মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামীরা ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে।

একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। চাঁদা না দিলে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তৎপরতা বাড়ে। পরে ওই রাতেই যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক কামরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রু সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Visited 6 times, 1 visit(s) today