ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পেছাল আরও এক দশক, কমানো হলো লক্ষ্যমাত্রার আকারও!

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পেছাল আরও এক দশক, কমানো হলো লক্ষ্যমাত্রার আকারও!
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক


এক সময় যেখানে ২০২৪ সালের মধ্যেই দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল, সেখানে এখন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৪ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার।

সময়ের ব্যবধানে প্রায় এক দশকের এই পেছানো এবং একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার আকার ছোট হয়ে আসা দেশের অর্থনীতির গতি, সক্ষমতা ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

২০২৩ সালের ১৪ই মার্চ রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আগামী বছর আমরা দেড় ট্রিলিয়ন অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছি।’  তাঁর ওই বক্তব্যের সময়কাল বিবেচনায় ২০২৪ সালের মধ্যেই এমন লক্ষ্য অর্জনের ইঙ্গিত ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার এবং এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

দুই সময়ের এ দুই বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ শুধু সময়েই পিছায়নি, বরং লক্ষ্যমাত্রার পরিধিও কমিয়ে আনতে হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখন এক দশক পরে গিয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারে স্থির হয়েছে।

অর্থাৎ সময়ের হিসেবে প্রায় ১০ বছর পিছিয়ে যাওয়া এবং আকারের দিক থেকেও অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলার কম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই ধরনের চাপই কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও ২০২৩ সালের বক্তব্যে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এসব কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

অভ্যন্তরীণভাবে বিনিয়োগে স্থবিরতা, শিল্প খাতে ধীরগতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণের সীমাবদ্ধতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জও লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ প্রয়োজন, যা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে ধারণা পাওয়া যায়, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে এসে এখন অপেক্ষাকৃত বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় জোর দেয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী আইটি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থনীতিকে বড় করার কৌশল নেয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এক দশক পিছিয়ে দেয়া এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে এবং এর মধ্যেও নতুন কোনো সমন্বয় প্রয়োজন হবে কি না। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সব মিলিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন অটুট থাকলেও বাস্তবতা বলছে, সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ এখন দীর্ঘতর এবং অপেক্ষাকৃত ধীরগতির।

Visited 11 times, 1 visit(s) today