সীতাকুণ্ডে চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন, বেঁচে গেলেন ৯০০ যাত্রী

সীতাকুণ্ডে চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন, বেঁচে গেলেন ৯০০ যাত্রী
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীবাহী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগুন লাগা ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আনুমানিক ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদে আছেন, কেউ আহত বা নিহত হননি বলে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা।

আজ ২৬শে মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮২৮টি আসন থাকলেও দাঁড়ানোসহ মোট ৯০০ জন যাত্রী ছিলেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগে ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সাব-অফিসার আহসান হাবিব বলেন, আজ সকাল ৭টার দিকে চলন্ত অবস্থায় চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, পাওয়ার কারে (বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বগি) আগুন জ্বলছিল। তারা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন।

তারা আসার আগেই ট্রেনের কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যান। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি তিনি।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও আজ ২০ মিনিট বিলম্বে ৬টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে। ৬টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুনে ট্রেনটির পাওয়ার কার (বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বগি) ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। কোনও যাত্রী হতাহত হননি। ট্রেনটির পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি পুড়ে গেছে। পরে একটি নতুন পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি সংযোজন করে ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ বলেন, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যেতে সক্ষম হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হাকিম বলেন, ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন। তাদের চিৎকার শুনে তিনিসহ এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে যান। অনেকে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।

রেল পুলিশের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৭টি বগি নিয়ে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সাতটার দিকে ট্রেনটি বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ‘চ’-এর সামনে থাকা একটি পাওয়ার কারে আগুন ধরে যায়।

এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনের এক বয়স্ক যাত্রী ওয়াশরুমে গেলে আগুন দেখতে পান। পরে তিনি অন্যদের বিষয়টি জানানোর পর তাৎক্ষণিক ট্রেনটি থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। ট্রেনটি থেমে গেলে যাত্রীরা নেমে পড়েন। এরপর ট্রেনটির আগুন লাগা বগি ও ‘চ’ বগিকে বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা এহসান আলী বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন  নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ট্রেনের পাওয়ার কার ও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি পুড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইঞ্জিনের ওভারহিট থেকে এ ট্রেনে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’

আগুন লাগার ঘটনায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিআরএম মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ট্রেনের বগিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে (ডিটিও) প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে অধিকতর তদন্ত করবে গঠিত কমিটি। তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিতের পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today