❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৫ সালের ১৫ই মার্চ সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৮ জন কৃষককে হত্যা করা হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিবছর দিনটিকে “কৃষক হত্যার প্রতিবাদ দিবস” হিসেবে পালন করে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এক বাণী প্রদান করেছেন।
বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং কৃষকই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে কৃষি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কৃষক সমাজ নীরবে আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কৃষকরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করে চলেছেন।
তিনি বলেন, যে কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করেন, ১৯৯৫ সালে সেই কৃষকদের জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি কালো অধ্যায়। সে সময় তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে সারের সংকট তৈরি হয় এবং কৃষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমন করতে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। কৃষকদের বুকে গুলি চালিয়ে তাদের আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে বাংলার মাটি কৃষকদের তাজা রক্তে সিক্ত হয়েছিল।
সেদিন নিহত কৃষকদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার শহিদ আতিক, জামালপুর সদর উপজেলার শহিদ খালেক, মেলান্দহ উপজেলার শহিদ কবির, নেত্রকোনা জেলার শহিদ নিত্যানন্দ, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার শহিদ রফিক, কিশোরগঞ্জ জেলার শহিদ মকছুদ মিয়া এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শহিদ টুকু মিয়া ও শহিদ মমিনসহ অনেকে ছিলেন।
বাণীতে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই কৃষিবান্ধব। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে কৃষিবিপ্লবের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। বহুমুখী চাপ থাকা সত্ত্বেও সারে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে তা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কখনোই সারের সংকট দেখা দেয়নি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দেশ আবার খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পুনরায় খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। তাই কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি কৃষক হত্যার প্রতিবাদ দিবসে নিহত কৃষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের কৃষকদের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
