স্থানীয় প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যখন বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় একটি নৃশংস ঘটনা দেশের নারী নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক কৃষক বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “এক নতুন মবের মুল্লুকে আমাদের বসবাস—লুটপাট, ক্ষমতা আর মব সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে, মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ নন।”
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫) নামে এক কৃষককে বখাটে যুবকরা মারধর করে গুরুতর আহত করে। ঘটনাটি ঘটে কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জাকির হোসেনের মেয়েকে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবক দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে লোহার রড, লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে ঘটেছে।
মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত যুবকরা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুলিশ এখনো কোনো গ্রেপ্তার করেনি।
নারী দিবসে ক্ষোভের প্রকাশ
এই ঘটনা নারী দিবসের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে লিখেছেন, “মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবা মারা যান—এটাই আমাদের দেশের বাস্তবতা। নারীরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ নন, প্রতিবাদ করলে পরিবারকেই মূল্য দিতে হয়।”
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে নারী নিরাপত্তাহীনতা ও মব সন্ত্রাসের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
স্থানীয় নারী সংগঠনের এক নেত্রী বলেন, “আজ নারী দিবসে আমরা সমতা ও নিরাপত্তার কথা বলছি, কিন্তু বাস্তবে মা-বোনেরা প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত, হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
এ ঘটনা দেশের নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিহত জাকির হোসেনের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।
