নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাংস্কৃতিক মঞ্জুরি কমিশন (চারুশিল্প ও থিয়েটার) খাত থেকে অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দেশ টিভির একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে, যা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ফারুকী নেতৃত্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে ৩০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় অবস্থিত ৭টি থিয়েটার গ্রুপ বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করে অনুদান প্রদান করা হয়।
কিন্তু দেশ টিভির অনুসন্ধানী দল সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখেছে যে, উল্লিখিত নামে বা ঠিকানায় এসব থিয়েটার বা সংগঠনের কোনো অস্তিত্বই নেই—কোনোকালেই ছিল না। এগুলোকে ‘ভুয়া’ বা ‘অস্তিত্বহীন’ (ghost organizations) প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দেশ টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, এই অনুদান বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি এবং সম্ভাব্য স্বজনপ্রীতি বা অন্যান্য স্বার্থের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংস্কৃতিক কর্মী ও থিয়েটার সংশ্লিষ্টরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, সরকারি তহবিল থেকে প্রকৃত সাংস্কৃতিক চর্চাকারীদের পরিবর্তে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সাংস্কৃতিক খাতের জন্য লজ্জাজনক।
এই অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে ‘দ্যা ফারুকী সিন্ডিকেট’ বলে উল্লেখ করে বড় ধরনের অনিয়মের অংশ হিসেবে দেখছেন, যদিও সরাসরি ফারুকীর ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে, কিছু মহল এই প্রতিবেদনকে ভুয়া প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল নথি অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের অনুদান প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশাবলী জারি করা হয়েছিল। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব কমিশনের উপর ছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা এই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
এই ঘটনা সাংস্কৃতিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা তদন্তের দাবি উঠছে। দেশ টিভির এই তদন্ত প্রতিবেদনটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে সোচ্চার হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
