বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে।
মাগুরা শহরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতিসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজোয়ান কবির। শুক্রবার সকালে তিনি মাগুরা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের জামরুলতলা এলাকার লতা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সমবেত হন। এ সময় তারা মিছিল করেন এবং বোমা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাশকতার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন—মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক হীরক (৫২), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সুলতানা (৪০), পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা হাসান মাসুদ এবং পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ওসমান আলী মোল্লা। বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক হীরকের স্ত্রী লাতিফা পারভিন। তিনি বলেন, সেখানে কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়, এরপর বক্তব্য ও মোনাজাত করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটার দিকে এনামুল হক হীরকসহ কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের নিচে জড়ো হয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দলের কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেন এবং ভবনের তিন তলায় অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের ঘটনা
শুধু মাগুরা নয়, যশোর, নওগাঁ, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধার অভিযোগ উঠেছে।
দলটির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
৭ মার্চের ভাষণ বাজানো ঘিরে উত্তেজনা শাহবাগে
এদিকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার রাতে শাহবাগ থানার সামনে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং একজনকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
মারধরের শিকার ব্যক্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং ডাকসুর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
আটক শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চানখারপুল মোড়ে সাউন্ডবক্সে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় এবং সাউন্ড সিস্টেম জব্দ করে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কারণে তাকে থানায় আনা হয়েছে।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে আটকের প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে মাইকে ভাষণ বাজান ডাকসু নির্বাচনে প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। এতে সেখানে উপস্থিত অন্য একটি গ্রুপ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সেখানে এসে ভাষণ বাজানোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, তারাবির নামাজের সময় মাইক বাজানো উদ্দেশ্যমূলক ছিল এবং এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করা হয় এবং পরে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি দাবি করেন, তার সঙ্গী আল মামুনের ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তাকেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে।
