নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৫: বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে চারুকলার মতামত না নেয়া এবং স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনের অবহেলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ (১৩ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সিনেটের মাধ্যমে নেওয়া হলেও, সেখানে কোনো ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না, যা একটি গুরুতর অবহেলা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান যে, এই নাম পরিবর্তনের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ দেওয়া হয়নি, যা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, এটি স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনের চরিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে কেড়ে নেওয়ার একটি চেষ্টা। এছাড়া, শোভাযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বৈরাচারের প্রতিকৃতির নকশা তৈরিতে নকশাকারের সম্মতি নেয়া হয়নি, যা আরেকটি গুরুতর অভিযোগ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনের গণ্যহত্যার প্রতিবাদে “কাটা তরমুজ” একটা মোটিফ বানাতে চাইলেও উচ্চ মহল এবং গোয়েন্দা সংস্থা দেয় নি অনুমতি। তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে, যাদের ফ্যাসিস্ট বলা হয়, তারাও এভাবে স্বতস্ফুর্ত সাংস্কৃতি চর্চার অধিকারকে কেড়ে নিতে পারে নাই, যেটা একক সিন্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে এই সরকার করেছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় সুনির্দিষ্ট কোন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতেই তড়িঘড়ি এই সিন্ধান্ত এক নায়কতন্ত্রের সামিল, ফ্যাসিবাদী মনোভাব।
অপরদিকে, খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন যে, চারুকলা থেকে এই প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়নি। বরং, একটি পিকআপ ভ্যানে এনে শোভাযাত্রায় জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা তাদের মধ্যে আরও অসন্তোষ জাগিয়েছে। সেই একই ধারায় শেখ হাসিনার মুখায়বের সাথে মিল রেখে স্বৈরাচারের প্রতিকৃতি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এবার সেটা হয়েছে চারুকলার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন যে, উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও উপদেষ্টা ফারুকী এই পুরো প্রক্রিয়ায় মিথ্যাচার করছেন, যা শোভাযাত্রার মর্যাদা ও ঐতিহ্য নষ্ট করছে। তাদের দাবি হলো, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও অবদান রক্ষিত হয়। এই সমস্যার সমাধান না হলে, তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি রয়েছে।
