ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আগাতে কিনতে হবে এয়ারবাস: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আগাতে কিনতে হবে এয়ারবাস: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
শেয়ার করুন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

 

ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস কেনার ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেছেন, এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ইউরোপের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্যও বড় স্বার্থের বিষয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে বোয়িংয়ের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয় উল্লেখ করে জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সম্পর্কে বিশ্বাস করে না। বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে ইউরোপ সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস গুরুত্বপূর্ণ।

 

রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্ব বিবেচনার পর এয়ারবাস কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিমানের বহরে এয়ারবাস থাকাটা বিমান বাংলাদেশের নিজেদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল।

তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থার অনেকগুলোর বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং দুই ধরনের উড়োজাহাজই রয়েছে। কোনো একটি কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটি প্রতিষ্ঠানের উড়োজাহাজের সুবিধা তুলনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

 

এয়ারবাসের কারিগরি সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যেতে পারে। সেটি বোয়িং নয়, এয়ারবাস। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের আর কোনো উড়োজাহাজ এ ধরনের সক্ষমতা রাখে না। এ কারণে অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিশ্বের শত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ভুল বা সন্দেহের কোনো কারণ নেই।

 

তবে একই সঙ্গে বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তির বিষয়টিকেও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলো ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এটি বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনো এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা কোন পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাইলে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের কাজে সময় লাগে। আলোচনাগুলো যেন সবচেয়ে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে শেষ হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে পরে কেউ বলতে না পারে যে কোনো ভুল হয়েছে কিংবা পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা এখনো সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে কারিগরি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি এয়ারবাসের হয়ে সরাসরি চুক্তি আলোচনাকারী নন। এটি ফরাসি বা যুক্তরাজ্য সরকারের চুক্তি নয়। এটি সরাসরি এয়ারবাস কোম্পানি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যকার চুক্তি, যা যথাসময়ে স্বাক্ষরিত হবে। একই সঙ্গে তিনি এ প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়েও কথা বলেন জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে ফ্রান্স। বাংলাদেশের গণমানুষ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে ফ্রান্স সব সময় নিজেদের মতামত সরকারের সামনে তুলে ধরে।

ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।

Visited 19 times, 1 visit(s) today