উড়োজাহাজ ক্রয়ে ৮ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ: শ্রীলঙ্কায় সাবেক রাষ্ট্রপতির পুত্র গ্রেপ্তার

উড়োজাহাজ ক্রয়ে ৮ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ: শ্রীলঙ্কায় সাবেক রাষ্ট্রপতির পুত্র গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


শ্রীলঙ্কার দুর্নীতি দমন সংস্থা দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকসের পুত্র তথা সংসদ সদস্য নামাল রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের একটি এয়ারবাস চুক্তির অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ মার্কিন ডলার অবৈধ ঘুষ হিসেবে গ্রহণের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চল্লিশ বর্ষীয় নামালকে আদালতের আদেশে ১৪ দিনের রিমান্ডের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি ও ঘুষের তদন্তকারী কমিশন (সিআইএবিওসি) উক্ত সাংসদকে আটকের পর বিচারবিভাগীয় আদালতে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য, মোট ২৩০ কোটি ডলারের এয়ারবাস চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আটক দেখানো হয়।

সিআইএবিওসি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি চুরান্ত করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস শ্রীলঙ্কার তৎকালীন রাজনীতিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করে। নামালও সেই অর্থের ভাগ হিসেবে আট লাখ ডলার হস্তগত করেন।

তদন্তকারী এই সংস্থাটি বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করেছে যে, শ্রীলঙ্কার জনৈক ব্যবসায়ী সিঙ্গাপুরের দুইটি আলাদা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে রাজাপাকসে-পুত্রের কাছে ওই নগদ অঙ্ক পৌঁছে দিয়েছিলেন।

এনডিটিভি আরও যুক্ত করেছে, নামালের পক্ষে আইনজীবী নিশান্ত দয়ানন্দ আদালত প্রাঙ্গণে জামিনের আর্জি পেশ করলেও বিজ্ঞ বিচারক তা খারিজ করে দেন।

উক্ত উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তিতে অসাধু উপায়ে আর্থিক লাভবান হওয়ার অভিযোগে গত মে মাসে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মাহিন্দা রাজাপাকসেকেও সিআইএবিওসি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে লঙ্কান তৎকালীন নতুন প্রশাসন চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করে।

রাজাপাকসে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাদের অবস্থান অনুযায়ী, এসব মামলা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক।

এর আগে গত মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কপিলা চন্দ্রসেনা তদন্তকারী কর্তাদের কাছে স্বীকার করেন যে, ২০১৩ সালে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে তিনি তিন দফায় সর্বমোট ছয় কোটি রুপি (তৎকালীন মূল্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার) প্রদান করেছিলেন।

অবশ্য পরবর্তী সময়ে চন্দ্রসেনা নিজের পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার করে দাবি করেছিলেন যে, বাধ্য হয়ে ও অন্যায্য চাপের মুখেই তিনি ওই বয়ান দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে মে মাসে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে আত্মীয়ের বাসভবন থেকে চন্দ্রসেনার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার এই রহস্যময় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ফাঁস হয় যে, শ্রীলঙ্কার কাছে ১০টি এয়ারবাস বিক্রির চুক্তিটি নিশ্চিতকরণে নূন্যতম ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিল এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ। উক্ত চালানের মধ্যে ১৭ লাখ ডলার চন্দ্রসেনার হস্তগত করা হয়।

২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে মাহিন্দা রাজাপাকসে যখন রাষ্ট্রপতি পদে সমাসীন ছিলেন, তখন শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভা ১০টি এয়ারবাস সংক্রান্ত এই বিতর্কিত প্রস্তাবে চূড়ান্ত সায় দিয়েছিল।

প্রচণ্ড আর্থিক অনিয়মে ডুবে থাকা শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বর্তমান পুঞ্জীভূত ক্ষতির অংক প্রায় ২০০ কোটি ডলারে ঠেকেছে। বিশাল ঋণের বোঝার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর বা বেসরকারিকরণের একাধিক প্রয়াস নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনোটিই সফলতার মুখ দেখেনি।

Visited 8 times, 1 visit(s) today