পণ্য আমদানির হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘাপলা! এই বিপুল অর্থ গেল কোথায়?

পণ্য আমদানির হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘাপলা! এই বিপুল অর্থ গেল কোথায়?
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক


দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, চড়া মূল্যস্ফীতি, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে মন্দা এবং রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত গতির অভাব বেশ কিছুদিন ধরেই দৃশ্যমান। তবে এবার দেশের দুই অন্যতম শীর্ষ সরকারি সংস্থা—বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে পণ্য আমদানি ব্যয় নিয়ে এক বিশাল অসামঞ্জস্য ও গরমিল প্রকাশ্যে এসেছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুই সংস্থার তথ্যে বিশাল ২০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান দেখা গেছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী উক্ত অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ৯৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৫ বিলিয়ন ডলার। অথচ গত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে আমদানি ব্যয় ছিল ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে সীমাবদ্ধ।

এই বিশাল অর্থের হিসাব না মেলায় স্বাভাবিকভাবেই বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মাসভিত্তিক আমদানির হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অর্থবছরের সমাপনী মাস জুনেই বিবিএস যেখানে আমদানি ব্যয় সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার দেখিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখিয়েছে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ কেবল এক মাসের ব্যবধানই ২ বিলিয়ন ডলার।

শুধুমাত্র মোট আমদানি ব্যয় নয়, খাতভিত্তিক হিসাবের ক্ষেত্রগুলোতেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য:

  • মূলধনী যন্ত্রপাতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয় দেখালেও বিবিএসের হিসাবে তা পৌনে ৬ বিলিয়ন ডলার।
  • জ্বালানি তেল: বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২.৫ (আড়াই) বিলিয়ন ডলার, কিন্তু বিবিএস বলছে তা ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
  • অন্যান্য পণ্য: চাল, গমসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও তথ্যের বড় ধরণের গরমিল দেখা গেছে।
  • বাণিজ্য ঘাটতি: আমদানি খরচের এই বিভ্রান্তির কারণে বাণিজ্য ঘাটতির তথ্যেও বিরাট পার্থক্য এসেছে। বিবিএসের তথ্যমতে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে তা ২৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি ও তথ্যের উৎসের মধ্যে তফাৎ থাকার কারণে এমন ধারণাগত ও কাঠামোগত বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্কতা জারি করে জানিয়েছেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কিংবা ড্যাশবোর্ড থাকার পরেও সঠিক তদারকির অভাবে অনেক এলসির পেমেন্ট বা অর্থ সময়মত দেশে না ফিরে বাইরে থেকে যায়, যা প্রকৃতপক্ষে অবৈধ অর্থপাচারকেই ইঙ্গিত করে।

তথ্যের এমন গরমিল ও অনিয়ম একদিকে যেমন দেশীয় ডেটার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে, অন্যদিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাঝেও ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তাই এনবিআর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তথ্যের উৎস ও সংজ্ঞা পরিষ্কার করে ডেটার সঠিক সমন্বয় করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


একাত্তর টেলিভিশন সংবাদ
Visited 45 times, 1 visit(s) today