জেফরি এপস্টাইনের নথিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ইপস্টাইনের সাথে পরোক্ষ যোগসূত্র ও গ্রামীণ আমেরিকার সংযোগ

জেফরি এপস্টাইনের নথিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ইপস্টাইনের সাথে পরোক্ষ যোগসূত্র ও গ্রামীণ আমেরিকার সংযোগ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক


ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম জেফরি এপস্টাইনের সাম্প্রতিক ফাইল বা ডকুমেন্টসে উঠে আসার দাবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। এই দাবির মূল উৎস হলো একটি ইমেইল, যা আল সেকেল (Al Seckel) নামক ব্যক্তি পাঠিয়েছিলেন।
আল সেকেল ছিলেন এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের (Ghislaine Maxwell) বোন ইসাবেল ম্যাক্সওয়েলের (Isabel Maxwell) স্বামী। ইসাবেল ম্যাক্সওয়েল গ্রামীণ আমেরিকার (Grameen America) সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে ড. ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

আল সেকেলের ইমেইলের বিষয়বস্তু

২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি ইমেইলে আল সেকেল দাবি করেন যে, তিনি এবং তার স্ত্রী ইসাবেল ড. ইউনূসকে “দ্য সিম্পসনস” কার্টুন সিরিজের স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিং (Matt Groening)-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে ড. ইউনূস “দ্য সিম্পসনস”-এর একটি পর্বে অতিথি চরিত্র হিসেবে উপস্থিত হন। পর্বের নাম “Loan-a Lisa” (সিজন ২২, এপিসোড ২), যা ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর প্রচারিত হয়। (আগের পর্ব “Elementary School Musical” ২৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত হয়েছিল, কিন্তু ইউনূসের উপস্থিতি “Loan-a Lisa”-তে, যেখানে মাইক্রোফাইন্যান্স নিয়ে গল্প।)

এই ইমেইলটি এপস্টাইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ডকুমেন্ট রিলিজে (DOJ বা আদালতের ফাইল থেকে) প্রকাশিত হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে। এতে ড. ইউনূসকে “our very good friend” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এপস্টাইন সিন্ডিকেটের সাথে ড ইউনুসের একটি ভালো বন্ধুত্ব ছিল এবং এপস্টাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত ছিলেন ড ইউনুস।এ পর্যন্ত প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইলসমূহে (২০২৪-২০২৫ সালের বিভিন্ন রিলিজ, যেমন Giuffre vs. Maxwell কেসের ডকুমেন্টস বা DOJ ফাইলস) ড. ইউনূসের নাম সরাসরি কোনো অভিযোগ, যৌন নির্যাতন বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়নি। নাম উঠে আসার কারণ মূলত ইসাবেল ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে জেফরি ইপস্টাইন নেটওয়ার্কের পেশাদার/সামাজিক যোগাযোগ। ইসাবেল গ্রামীণ আমেরিকার অ্যাডভাইজার ছিলেন, যা এপস্টাইন চক্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগসূত্র তৈরি করেছিল।

অন্যান্য ফাইলে গ্রামীণ আমেরিকার পিচ ডেক বা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ইভেন্টে ইউনূসের উপস্থিতির উল্লেখ আছে। সাম্প্রতিক (২০২৫-২০২৬) রিলিজে কোনো নতুন “বোম্বশেল” প্রমাণ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এখনো উঠে আসে নাই, বা এখনই প্রকাশ করা হয় নাই।

X (টুইটার)-এ অনেক পোস্টে ড. ইউনূসকে এপস্টাইনের “ক্লায়েন্ট” বা “বন্ধু” বলে অভিহিত করা হয়েছে, মূলত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ এর সুত্র ধরে। কিছু পোস্টে গ্রামীণ-জামিলের সৌদি বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জামিলের এপস্টাইন ব্ল্যাক বুক যোগসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার সহযোগীরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি । তবে এটি তার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

Visited 1,384 times, 1 visit(s) today