নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম জেফরি এপস্টাইনের সাম্প্রতিক ফাইল বা ডকুমেন্টসে উঠে আসার দাবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। এই দাবির মূল উৎস হলো একটি ইমেইল, যা আল সেকেল (Al Seckel) নামক ব্যক্তি পাঠিয়েছিলেন।
আল সেকেলের ইমেইলের বিষয়বস্তু
এই ইমেইলটি এপস্টাইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ডকুমেন্ট রিলিজে (DOJ বা আদালতের ফাইল থেকে) প্রকাশিত হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে। এতে ড. ইউনূসকে “our very good friend” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এপস্টাইন সিন্ডিকেটের সাথে ড ইউনুসের একটি ভালো বন্ধুত্ব ছিল এবং এপস্টাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত ছিলেন ড ইউনুস।এ পর্যন্ত প্রকাশিত এপস্টাইন ফাইলসমূহে (২০২৪-২০২৫ সালের বিভিন্ন রিলিজ, যেমন Giuffre vs. Maxwell কেসের ডকুমেন্টস বা DOJ ফাইলস) ড. ইউনূসের নাম সরাসরি কোনো অভিযোগ, যৌন নির্যাতন বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়নি। নাম উঠে আসার কারণ মূলত ইসাবেল ম্যাক্সওয়েলের মাধ্যমে জেফরি ইপস্টাইন নেটওয়ার্কের পেশাদার/সামাজিক যোগাযোগ। ইসাবেল গ্রামীণ আমেরিকার অ্যাডভাইজার ছিলেন, যা এপস্টাইন চক্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগসূত্র তৈরি করেছিল।
অন্যান্য ফাইলে গ্রামীণ আমেরিকার পিচ ডেক বা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ইভেন্টে ইউনূসের উপস্থিতির উল্লেখ আছে। সাম্প্রতিক (২০২৫-২০২৬) রিলিজে কোনো নতুন “বোম্বশেল” প্রমাণ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এখনো উঠে আসে নাই, বা এখনই প্রকাশ করা হয় নাই।
X (টুইটার)-এ অনেক পোস্টে ড. ইউনূসকে এপস্টাইনের “ক্লায়েন্ট” বা “বন্ধু” বলে অভিহিত করা হয়েছে, মূলত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ এর সুত্র ধরে। কিছু পোস্টে গ্রামীণ-জামিলের সৌদি বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জামিলের এপস্টাইন ব্ল্যাক বুক যোগসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার সহযোগীরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি । তবে এটি তার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

