জেলা প্রতিনিধি
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে মঞ্চে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়েছে।
আজ ২৮শে জানুয়ারি, বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এই ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। পরে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে বসেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ইশতেহার পাঠ শুরু করেন।
তখন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক মঞ্চে একই সারিতে চেয়ার বসতে না পারায় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভেঙে ফেলে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করেছে।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।
অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, উগ্রবাদী ও জঙ্গি জামায়াত ইশতেহার অনুষ্ঠানে পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হন এবং বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সকল প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি; অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
