দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: ৬টি আর্থিক সংস্থা বন্ধ, ৩টির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: ৬টি আর্থিক সংস্থা বন্ধ, ৩টির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
শেয়ার করুন

 

বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত অবসায়নের বাইরে রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতি সাধনের জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিয়ম, অত্যধিক খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)-কে আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।

ব্যাংকের বোর্ড সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন তাদের বিরুদ্ধে অবসায়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়।

দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে সেগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, অবসায়নের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো যৌক্তিক আপত্তি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গত সপ্তাহে শুনানি শুরু হয়, যা গত রোববার শেষ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও যুক্তি উপস্থাপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির ফলেই এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

উদাহরণ হিসেবে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্‌ণ এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই, তাদের জমাকৃত মূল টাকা ফেরত পাবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে সম্পদের অবস্থা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক। এর ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না।

Visited 14 times, 1 visit(s) today