নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিশ্বের ১২১টি দেশে প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে।
এই উদ্যোগকে অনেকে গণতন্ত্রের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়নের শুরুতেই নানা অভিযোগ ও অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাহরাইনে একসঙ্গে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট খাম গণনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, একটি স্থানে ১৬০ থেকে শুরু করে কয়েকশ’ খাম একসঙ্গে পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, ১১ জানুয়ারি বাহরাইন পোস্ট কর্তৃপক্ষ ভোটারদের কর্মস্থলে থাকার কারণে তাদের সহকর্মীর কাছে ১৬০টি ব্যালট খাম হস্তান্তর করেছিল। পরে ভোটাররা সেগুলো সংগ্রহের সময় আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভিডিওটি করা হয়েছে। তবে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “এটি করা উচিত হয়নি” এবং কোনো গোপনীয়তা ভঙ্গ হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের প্রবাসী ভোটাররা অভিযোগ করেছেন, তারা এখনও ব্যালট পাননি। অথচ ইসির ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং করে দেখা যাচ্ছে যে, ব্যালটগুলো ‘ডেলিভার্ড’ দেখাচ্ছে।
অনেকে বলছেন, ঠিকানায় ব্যালট পৌঁছালেও তা সঠিকভাবে হস্তান্তর না হওয়া বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের বিন্যাস ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। দলটি বলছে, কয়েকটি দলের প্রতীক প্রথম লাইনে থাকলেও ধানের শীষ মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে দৃশ্যমান নয়। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ইসির কাছে এর সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, প্রবাসী ভোটের এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ততই বিতর্ক ও অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমবারের মতো এমন বড় আকারের পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইসিকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের এই প্রচেষ্টা যেন সত্যিকার অর্থে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারে, সেদিকেই এখন সবার নজর।

