নির্বাচনী ভরাডুবির পর এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-হুমকির অভিযোগ: জনসমর্থন হারানো দলের আলোচনায় থাকার চেষ্টা?

নির্বাচনী ভরাডুবির পর এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-হুমকির অভিযোগ: জনসমর্থন হারানো দলের আলোচনায় থাকার চেষ্টা?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় জোট (জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন) ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। দলটির বেশিরভাগ প্রার্থী, বিশেষ করে হেভিওয়েট নেতারা, লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সার্জিস আলম—দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও এলাকাছাড়া করার অভিযোগ তুলে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, “সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর এবং পরিবার হুমকির সম্মুখীন। যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা আপনাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটাই যদি বিরোধীদল ও মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয় তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে।”

 

একই সুরে সার্জিস আলমও অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের পর দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চলছে। পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার দাবি তুলে তারা বিজয়ী দলগুলোর (প্রধানত বিএনপি) প্রতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, এই অভিযোগগুলো মূলত মিডিয়া সহানুভূতি আদায়ের কৌশল। বিগত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ধরনের মব সন্ত্রাস, হামলা ও এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছিল—যার সঙ্গে এনসিপির নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে ছিল—সেই একই ঘটনা এখন তাদের সাথে উঠছে। অনেকে বলছেন, আগেরটা যদি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়, তাহলে সেই উদাহারনই অনুসরন করছে রাজনৈতিক দলগুলো। নতুন বন্দোবস্ত’র যেইউদাহারন এনসিপি সৃষ্টি করেছে, সেটা এখন ঘটে থাকলে, তার দায় এনসিপির উপরেই বর্তায়।

 

নির্বাচনে জনগণের কাছ থেকে বর্জিত হওয়ার পর এখন তারা নিজেদেরকে ‘ভিকটিম’ হিসেবে উপস্থাপন করে সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে সমালোচনা উঠেছে।

 

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, এনসিপির কয়েকজন নেতা (যেমন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ) জয়ী হলেও, সার্জিস আলম, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ অনেকেই পরাজিত হয়েছেন। দলটি ফলাফলে কারচুপি, ভোট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলেও, জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি সমর্থনের অভাব স্পষ্ট।

 

নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন এলাকায় এনসিপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও উঠেছে, যা এখন তারা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনে জনগণের রায়কে সম্মান না করে এভাবে ভিকটিম কার্ড খেলে দলটির বিশ্বাসযোগ্যতা আরও কমবে। গণতন্ত্রের নামে যদি নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে গিয়ে শুধু সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চলে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য ক্ষতিকর হবে।

 

এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষের উচিত শান্তি বজায় রাখা ও আইনি পথে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা, যাতে নতুন করে কোনো সহিংসতা না ছড়ায়।

 

Visited 13 times, 1 visit(s) today