বিপিএলের ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত আসিফ মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতা!

বিপিএলের ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত আসিফ মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় এনসিপি নেতা!
শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ক্ষেত্রে যেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবালও এই মুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিকে মাঠে নামাতে প্রস্তুত নন বলে জানা গেছে। তিনি মনে করছেন এটি একটি ‘লস প্রজেক্ট’, যা বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই কিছুটা সময় নিয়ে গুছিয়ে বিপিএল আয়োজন করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

তবে এই মুহূর্তে বিপিএলকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এর ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ড। বেশ কয়েক মাস ধরেই বিপিএলের ফিক্সিং নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের মে মাসে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের নাম প্রকাশ্যে এসেছিল, যার মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের এক ক্রিকেটার, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক ও টিম ম্যানেজারসহ অন্যান্যরা ছিলেন। এর এদের পেছনে আছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ।

এবার দ্বিতীয় ধাপে বিপিএলের ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত আরও তিনজনের নাম জানা গেছে। তবে বিসিবির সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই স্টার প্লে’র হাতে এসেছে নতুন সেই তিনজনের মধ্যে দুজনের নাম, যারা সরাসরি এই ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

বেসরকারি টিভি চ্যানেল স্টার প্লে’র তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি নাম হলো রাজনীতিবিদ রফিকুল ইসলাম সানী। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সুপারিশ বা মেয়াদে তিনি বিসিবির কাউন্সিলর পদ লাভ করেন এবং বগুড়া জেলা থেকে বিসিবির নির্বাচনে ভোটও প্রদান করেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালীন আসিফ মাহমুদের হাত ধরে বিসিবিতে আসা এই রাজনীতিকের আগে খেলাধুলার সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্কের খবর জানা না গেলেও, এবার বিপিএলের ফিক্সিং কাণ্ডে তার নাম যুক্ত হলো।

দ্বিতীয় যে ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তিনি হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান শামীম। ২০২৫ সালের শেষের দিকেই তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে আসে। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

আইসিসি বা বিসিবির অ্যান্টি-করপশন ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন আকসু/ইন্টিগ্রিটি টিমের ৯০০ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রতিবেদনের পরই এই নতুন তিনজনের নাম সামনে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠকরা বলেন, ক্রিকেটকে যারা কলুষিত করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।

 

Visited 111 times, 1 visit(s) today