ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় এক বছরে অপহরণ বেড়েছে ৭২ শতাংশ, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ

ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় এক বছরে অপহরণ বেড়েছে ৭২ শতাংশ, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারাদেশে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ১০২টি, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬০টি বেশি। ২০২৪ সালে অপহরণের সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। শতাংশের হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অপহরণ বেড়েছে ৭১.৬৫ শতাংশ- যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কার্যকর সমন্বয় ও নজরদারি নিশ্চিত করতে পারেননি।

অভিযানের সংখ্যা বাড়লেও মাঠপর্যায়ে অপরাধ দমন হচ্ছে না—এমন অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৪৪৫টি, ২০২২ সালে ৪৬০টি, ২০২৩ সালে ৪৬৩টি এবং ২০২৪ সালে ৬৪২টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা এই প্রবণতা ২০২৫ সালে এসে রেকর্ড ছুঁয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক মহল।

নতুন বছরে একের পর এক আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভোটের মাঠের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক দলের নেতা। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ঘোষিত অভিযান ও নির্দেশনার মধ্যেও সহিংসতা কমেনি—এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযান চললেও থামেনি সহিংসতা

সরকার গত ১৩ই ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেজ–২)’ শুরু করে। সোমবার পর্যন্ত ২৪ দিনে ১৫ হাজার ৯ জন গ্রেপ্তার ও ২১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তা সত্ত্বেও গুলির ঘটনা, খুন ও অপহরণ অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৯শে ডিসেম্বর পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক আসন্ন নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে নির্দেশ দেন। ওই সভায় ভার্চুয়ালি সব জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন মিলছে না—এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ

গত বুধবার ঢাকায় মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে ৩১শে ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে; পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

এ ছাড়া ১লা ডিসেম্বর জুরাইনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক পাপ্পু শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন; স্থানীয়দের বাধার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গত ৩০শে নভেম্বর খুলনার আদালতের সামনে ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদারকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। আর ১৭ই নভেম্বর রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।

পুলিশ বলছে, এসব হত্যায় পেশাদার ও ভাড়াটে খুনির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলছে।

খুন–অপহরণ–নির্যাতনের পরিসংখ্যান

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৫টি। তবে পুরোনো ঘটনার মামলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২০২৪ সালে খুন ছিল ৩ হাজার ৪৩২টি, অপহরণ ৬৪২টি এবং নারী–শিশু নির্যাতন ১৭ হাজার ৫৭১টি। ২০২৩ সালে খুন ৩ হাজার ২৩টি, অপহরণ ৪৬৩টি এবং নারী–শিশু নির্যাতন ১৮ হাজার ৯৪১টি নথিভুক্ত হয়।

মাসভিত্তিক হিসাবেও ২০২৪ ও ২০২৩ সালে খুন, অপহরণ ও নারী–শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রায় থেকেছে—যা আইনশৃঙ্খলার দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকেই ইঙ্গিত করে।

Visited 17 times, 1 visit(s) today