নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ – বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের রেওয়াজ থাকলেও এবারও তা সম্ভব হবে ন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৪০ কোটি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। গত বছরের মতো এবারও মুদ্রণ ও বিতরণে বিলম্বের কারণে লাখো শিক্ষার্থী নতুন বই ছাড়াই শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে বাধ্য হবে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে ক্লাস ১ থেকে ৩ পর্যন্ত কিছু বই বিতরণ করা গেলেও ক্লাস ৪ ও ৫-এর বইয়ের বিতরণ কয়েক দিন বিলম্বিত হবে। মাধ্যমিক স্তরে (ক্লাস ৬ থেকে ১০) পরিস্থিতি আরও খারাপ – শুধু বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো কয়েকটি বিষয়ের বই প্রাথমিকভাবে বিতরণ করা হতে পারে, বাকি বইগুলো জানুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষের দিকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীরা খালি হাতে আংশিক বই নিয়ে ফিরে যেতে হবে এবারও ।
গত বছর (২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে বই বিতরণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। সে বছর জানুয়ারির প্রথম দিনে মাত্র ৩৭ শতাংশ বই বিতরণ করা সম্ভব হয় এবং পুরোপুরি বিতরণ শেষ হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চে।
এবার ২০২৬-এর জন্য প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় বিলম্ব (ক্লাস ৬-৮-এর বইয়ের দরপত্রে সমস্যা), কাগজ সরবরাহের ঘাটতি এবং মুদ্রণকারীদের আর্থিক সংকটের কারণে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। সরকার অগাস্টেই দরপত্র প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করলেও সময়মতো সব লট অনুমোদন হয়নি।
শিক্ষা উপদেষ্টা ও এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ বই বিতরণ সম্পন্ন হবে। এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, “কিছু বিলম্ব হলেও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। শিক্ষার্থীরা এনসিটিবি ওয়েবসাইট থেকে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে।”
তবে শিক্ষক ও অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন যে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় এবং প্রিন্ট করার খরচের কারণে এই বিকল্প কার্যকর নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারাবাহিক বিলম্ব শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি বাড়াচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত করছে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, দরপত্র প্রক্রিয়া, কাগজ আমদানি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। সরকারের উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রক্রিয়া সংস্কার করা, যাতে আগামী বছরগুলোতে এই বিশৃঙ্খলা আর না হয়।
এদিকে, অনেক স্কুলে শিক্ষকরা পুরোনো বই বা ফটোকপি দিয়ে ক্লাস চালাতে হবে এ বছরের মতো, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নতুন শিক্ষাবর্ষের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে এই বিলম্বের কারণে।
