জামায়াতের সাথে জোট: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ–নারী স্বাধীনতার প্রশ্নে এনসিপিতে বড় ভাঙন

জামায়াতের সাথে জোট: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ–নারী স্বাধীনতার প্রশ্নে এনসিপিতে বড় ভাঙন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর সংকটে পড়েছে।

ইতিমধ্যে দলটির পরিচিত মুখ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলটির ভেতরে অন্তঃকোন্দল, একের পর এক পদত্যাগ এবং আদর্শিক বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে।

এনসিপি’র কেন্দ্রীয় আরও ৩০ নেতা সংগঠনের আহ্বায়ক বরাবর জামায়াতের সাথে জোটগঠনে দ্বিমত করে চিঠি দিয়েছেন। যার মধ্যে আছেন পরিচিত কমপক্ষে ১০ জন নারী নেত্রী, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামান্থা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, তাজনূভা জাবিন।

এদিকে তাসনিম জারা তার ফেসবুক পোস্টে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসা এবং সমঝোতার রাজনীতিতে ভিন্নমতকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে তিনি এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য চলছিল। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ নেতা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।

চিঠিতে তারা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস ও নারী স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থানকে তারা মৌলিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তার এই বক্তব্য দলটির ভেতরের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

তাসনিম জারার পদত্যাগের পাশাপাশি তার স্বামী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মীর আরশাদুল হকসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দল ছাড়েন। তাদের অভিযোগ, এনসিপিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র দুর্বল, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নেই এবং তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে ভেঙে পড়বে।

এনসিপির ভেতরে চলমান এই সংকট নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনীতিতে কোন অবস্থান নেবে এনসিপি এবং আদর্শিক প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করতে পারবে—সে বিষয়ে দলটির ভেতরেই এখনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

Visited 11 times, 1 visit(s) today