ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সহায়তাকারী ছাত্রদের দ্বন্দ্ব, কমেনি ঢাকার যানজট: যে লাউ সেই কদু

ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সহায়তাকারী ছাত্রদের দ্বন্দ্ব, কমেনি ঢাকার যানজট: যে লাউ সেই কদু
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। প্রশিক্ষণের অভাব, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সড়ক ব্যবস্থাপনায়, কমেনি যানজট কিংবা বিশৃঙ্খলা।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সংকট দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সড়কে নামেন।

পরে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগে প্রায় ৮৫০ শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বড় অংশ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব শুরুর আগে এক সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অনেক শিক্ষার্থী ট্রাফিক সিগন্যাল, লেন ব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের অগ্রাধিকার বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। এতে কখনো কখনো পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে।

একাধিক ট্রাফিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, কিছু শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি নির্দেশনা মানছেন না। কোথাও কোথাও কে নির্দেশ দেবেন—পুলিশ না শিক্ষার্থী—এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে চালক ও পথচারীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

দায়িত্ব পালনের সময় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত সময় পূর্ণ না করেই দায়িত্ব ত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের বাইরে দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন।

ডিএমপির এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, “একটি ক্রসিংয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল দরকার। শিক্ষার্থীরা সময়মতো না এলে বা আগে চলে গেলে আমাদের কম লোক দিয়ে পুরো এলাকা সামলাতে হয়।”

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও ভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন না থাকায় মাঠে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় তারা কখনো কখনো অপমানজনক আচরণের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে নগরবাসীর অভিজ্ঞতাও মিশ্র। কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীরা থাকলে ট্রাফিক কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে। আবার অনেকেই বলছেন, একই মোড়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীর ভিন্ন নির্দেশনার কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একজন যুগ্ম কমিশনার বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দ জুন মাস পর্যন্ত রয়েছে। এই সময়ের পর কার্যক্রম চালু থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

Visited 19 times, 1 visit(s) today