নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউনিসফা) একটি লজিস্টিক ঘাঁটিতে গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন বীর শান্তিরক্ষীর মরদেহ আজ শনিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, মরদেহগুলো দেশে প্রত্যাবর্তনের পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় জানাজা এবং দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
হামলায় নিহত শান্তিরক্ষীদের নাম-পরিচয় ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন:
- কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর)
- সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম)
- সৈনিক মো. শামীম রেজা
- সৈনিক শান্ত মন্ডল
- সৈনিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
- সৈনিক সবুজ মিয়া
একই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র ও উগ্রবাদীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা, খুলে দিয়েছিল ঢাকায় ঢোকার প্রবেশমূখ, যার ফলশ্রুতিতে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়। সেদিন সেনাসদস্যদের আন্দোলনকারীরা ফুল দিয়ে, সেলফি তুলে বরন করেছিল।অথচ জুলাইয়ের ১৫ মাস পরে সরকারী বিবৃতি ছাড়া আর কোথাও নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ।
আইএসপিআর জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ‘ভয়াবহ’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ জাতির গৌরবের প্রতীক। নিহত বীরদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
এদিকে, দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে এই শোকাবহ খবরটি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
Visited 7 times, 1 visit(s) today
