ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ঃ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ায় ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর সমস্যা তুলে ধরেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে, যখন ডা. আবু জাফর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত শিশুদের মূত্রাশয় ও প্রজননতন্ত্র রোগের চিকিৎসা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সেমিনারের পূর্বে হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট, বিশেষ করে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ওটির কক্ষে টেবিল স্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় ডা. ধনদেব বর্মণের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ডা বর্মন জানান অপারেশন থিয়েটারে লিখতে, তাই লেখার জন্য এই টেবিল রাখা হয়েছে। এ সময় ডিজি বলেন, আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথাবার্তা হুঁশ করে বলবেন। এ সময় ডিজি নিজের সঙ্গের লোকজনকে ভিডিও করতে বলেন। ডিজি বলেন, যারা ডিজির সঙ্গে এমন ব্যবহার করে তারা রোগীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে।
এর জবাবে ডা. ধনদেব বলে ওঠেন, “আমাকে সাসপেন্ড করেন স্যার। আমি এই চাকরি আর করতে চাই না। অদ্ভুত উটের পিঠে চড়ে চলেছে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।”
এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. আবু জাফর সঙ্গে থাকা সহযাত্রীদের উদ্দেশ্যে ডা. ধনদেবকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর সন্ধ্যায় হাসপাতাল প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডা. ধনদেবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলবে।
“ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে আবাসিক সার্জন থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিলাভকারী। ঘটনা নিয়ে কথা বলতে তিনি বলেন, “ডিজির কাছ থেকে গুরুজনের মতো আচরণ আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি সমস্যাগুলো না বুঝে সরাসরি টেবিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। আমার চাকরিজীবন শেষ হতে চলেছে, পদোন্নতির অভাবে হতাশা রয়েছে। যদি সাসপেন্ড করা হয়, তাতে কোনো আপত্তি নেই।”
তাঁর এই বক্তব্য স্বাস্থ্য খাতের গভীর অসন্তোষকে প্রতিফলিত করছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগহীনতার প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ডা. ধনদেবের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরকারি স্তরে সংস্কারের দাবি তুলেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
Visited 74 times, 1 visit(s) today
