পেয়াজের ঝাঁজে চোখে জল ক্রেতাদের: ২ দিনে কেজিতে বাড়ল ৩৫ টাকা

পেয়াজের ঝাঁজে চোখে জল ক্রেতাদের: ২ দিনে কেজিতে বাড়ল ৩৫ টাকা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত দুই দিনে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার যে পেঁয়াজ ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০-৩৫ টাকা বেশি। পাইকারি বাজারে দাম উঠেছে ১৩৮-১৪৫ টাকা কেজি। পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ প্রধান উৎপাদন এলাকাতেও খুচরা দাম এখন ১৪০-১৫০ টাকার ঘরে।

কেন এই লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে?বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে:

বর্তমানে বাজারে যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, তা গত মৌসুমের সংরক্ষিত ফসল। বর্ষার অতিবৃষ্টি ও অনিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণের কারণে ৩০-৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে মজুত দ্রুত ফুরাচ্ছে।

সিন্ডিকেটকে দেয়া সুযোগ আড়াল করতে আমদানি বন্ধ করার মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, পাকিস্থান থেকে চাল আমদানি চালু থাকলেও সময়মতো পিয়াজের মজুদ হ্রাসের আগেই আমদানির ব্যাবস্থা করা হয়নি।

যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দাবী করা হয়েছে কৃষকদের সুরক্ষায় গত মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানি প্রায় বন্ধ রেখেছে সরকার। ভারত, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক থেকে আমদানি না থাকায় বাজারে সরবরাহের বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পিছনে তথ্যগত অসততা রয়েছে। এই আমদানি বন্ধ রাখায় কৃষককদের কোন লাভ হয়নি বরং সুযোগ করে দেয়া হয়েছে সিন্ডিকেটদের লাভ করার, এমনই অভিযোগ কৃষকদের

অনেক বড় ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী নতুন পেঁয়াজ আসার আগ পর্যন্ত দাম আরও বাড়বে ভেবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গোডাউনে পেঁয়াজ মজুত করে রেখেছেন। এতে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি বছর অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে পুরনো ফসল শেষ হয়ে যায় এবং নতুন ফসল বাজারে আসতে দেরি হয়। এই সময়টিতে দাম সাধারণত ৮০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। একমাত্র সময়োপযোগী আমদানি আর বাজারে পেয়াজের প্রাপ্যতাই দামে সাশ্রয় আনতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মুরিকটা জাতের আদি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে আর মাত্র ১০-১৫ দিন লাগবে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে (১৫-২৫ ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ১.৫ লক্ষ টন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বর্ষার কারণে কিছু জমিতে ফলন কম হওয়ায় পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ি সরবরাহের ঘাটতি থেকেই যাবে, যার কারনে নতুন পেয়াজ দাম কমাতে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন ৫০টি আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৫০০ টন করে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ থাকছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে দাম না কমলে আমদানি আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এছাড়া টিসিবি’র ট্রাক সেলে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে হতাশা প্রকাশ করে গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, “দুই দিন আগেও ১২০ টাকায় কিনেছি, আজ ১৬০ টাকা। এভাবে চললে রান্নাই বন্ধ হয়ে যাবে।”পেঁয়াজের এই মূল্যস্ফীতি নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত ক্রেতাদের পকেটে চাপ থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

Visited 10 times, 1 visit(s) today