❐ চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে দিন দিন ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে।
নতুন করে দুজনের মৃত্যুর পর চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এ বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।
আজ ১৩ই সেপ্টেম্বর, রোববার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি অবলোকন করে নগরবাসী তুমুল প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন প্রতিদিনই। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনসহ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দপ্তরগুলোর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে, এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া দুজনের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপরজন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামে।
চমেক হাসপাতালে মারা যাওয়া অর্পিতার বয়স ২৬ বছর। তিনি নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ই সেপ্টেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরদিন, ১১ই সেপ্টেম্বর, তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যাওয়া শামসুন নাহার খানমের বয়স ৫০ বছর। তিনি নগরের আগ্রাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকার বাসিন্দা। ১১ই সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৭ জন সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে গেছেন। আর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০ জন।
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৫ জন, বিআইটিআইডিতে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং সিএমএইচে ৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৪৫৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শনাক্ত হয়েছেন ৪২৬ জন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন।
এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
