কুটনৈতিক প্রতিনিধি
ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তার সরকার অনুরোধটি খতিয়ে দেখছে।
তবে ভারতীয় একাধিক কূটনৈতিক চ্যানেলের ভাষ্য, জয়সওয়ালের মন্তব্য কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া। ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে এখনও বাংলাদেশের নির্বাচিত ও সাংবিধানিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য করে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনির্বাচিত এবং অসাংবিধানিক বলে মনে করে ভারত।
ফলশ্রুতিতে তাদের হাতে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই ভারত সরকারের। ইতিমধ্যে ভারতের সকল প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
অনির্বাচিত এবং অসাংবিধানিক কারো আব্দার কিংবা দাবি ভারত মানতে বাধ্য নয়, এটা ভারতীয় জনগণেরও কথা- কূটনৈতিক সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার অধীনে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ নিরাপদ পরিবেশে ভারতে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে মনে করে ভারত।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সীমিতভাবে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, আদালতের রায়ের ধরণ এবং সন্ত্রাসবাদের বৃদ্ধি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।
ভারত সবসময় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পক্ষে, যেখানে আওয়ামী লীগের মত সবচেয়ে প্রাচীন এবং স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের নীতি হলো শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তিনি এবং তাঁর দল নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূসের ট্রাইব্যুনাল মারফত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ভারত সেই চিঠিটি সরাসরি উপেক্ষা করেছে, এমনকি ভদ্রতাবশতঃ জবাব পর্যন্ত দেয়নি।
এছাড়াও, চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলন চলাকালীন হোটেল লবিতে ৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাতে ড. ইউনূস ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য অনুরোধ করলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন যে, ভারত কারও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করায় বিশ্বাস করে না।
ভারতে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে অবস্থারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত দেশের তৃণমুল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করছেন।
সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমসমূহে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রদান নিয়ন্ত্রণ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েও কোন সাড়া মেলেনি।
