জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম সেতু এলাকায় দিনদুপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আশ্রয় নেওয়ার পরও দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা পাননি রিয়াদ (২৬) নামের এক যুবদল কর্মী।
গতকাল ২৭শে নভেম্বর, বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দিনদুপুরে প্রকাশ্যে পুলিশ বক্সে ঢুকে যুবককে খুনের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আবারও সামনে আসলো।
নিহত যুবদল কর্মী রেজওয়ান জাহান খান রিয়াদ পাটগুদাম এলাকার কালীবাড়ি সড়কের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাইদুল হক খানের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশরাফুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কেওয়াটখালী সড়ক থেকে রিয়াদকে ধাওয়া করে আনতে আনতে পাটগুদাম সেতুর পাশে ট্রাফিক পুলিশ বক্স পর্যন্ত নিয়ে আসে। জীবন বাঁচাতে রিয়াদ ওই পুলিশ বক্সে ঢুকে আশ্রয় নেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে ওপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। দুই হাত ও বাম ঊরুতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
রিয়াদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বাবা সাইদুল হক বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেউ বাঁচাতে আসেনি। পরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। তবে, কী কারণে, কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারিনি। আমার ছেলে যুবদল নেতা ইনছানের সঙ্গে রাজনীতি করত।’
ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ছেলের খুনিদের বিচার করার দাবি জানান তিনি।
মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনছান বলেন, ‘নিহত রেদুয়ান জাহান রিয়াদ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। সে যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী। এই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়রা জানান, রিয়াদ নাসিরাবাদ কলেজের অনিয়মিত ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাবার সঙ্গে একটি স্থানীয় ডিশ লাইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, এবং আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নগরীর ব্যস্ত এলাকায় দিনের আলোয় এমন হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্রকের নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
