❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
বাংলাদেশে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আইনজীবীদের স্বাধীনতা হরণ ছাড়াও তাদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনজীবী সংগঠন। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা জাস্টিসমেকারস বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)-এর উদ্যোগে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ১৫টি সংগঠন বাংলাদেশে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে চলমান নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনজীবীদের ওপর ব্যাপক দমননীতি চালাচ্ছে। জেএমবিএফ-এর নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ২৬৮টি ঘটনায় মোট ৮৪৯ জন আইনজীবী বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ভুয়া মামলা, নির্বিচার গ্রেপ্তার, শারীরিক হামলা, পেশাগত নিষেধাজ্ঞা, অফিস ও বাসভবনে হামলা, এমনকি কয়েকজন আইনজীবীর হত্যা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং তা মূলত আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ৮৮ শতাংশ ঘটনা ও ৯৩ শতাংশ ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী, যা সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক নিপীড়নের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধারাবাহিক দমননীতি শুধু আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সংগঠনগুলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন অবিলম্বে সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধ করা হয়, আটক আইনজীবীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় যাতে এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
তারা আরও আহ্বান জানিয়েছে, জাতিসংঘের মৌলিক নীতিমালার আলোকে একটি “আইনজীবী সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন করা হোক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—বিশেষত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনজীবী সংগঠন—বাংলাদেশে আইনজীবীদের সুরক্ষার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করুক।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে জাস্টিসমেকারস বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ), কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল’ সোসাইটিস অব ইউরোপ (সিসিবিই), ন্যাশনাল বার কাউন্সিল (সিএনবি), ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি অব ল’ইয়ার্স অ্যাট রিস্ক (ওআইএডি), অ্যারেস্টেড ল’ইয়ার্স ইনিশিয়েটিভ, আরব সেন্টার ফর দ্য ইনডিপেনডেন্স অব দ্য জুডিশিয়ারি, পিপলস ভিজিল্যান্স কমিটি অন হিউম্যান রাইটস (পিভিসিএইচআর), বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম), ‘নেভার এগেইন’ অ্যাসোসিয়েশন (পোল্যান্ড), এশিয়া প্যাসিফিক রিফিউজি রাইটস নেটওয়ার্ক (এপিআরএন), প্রোগ্রাম এগেইনস্ট কাস্টডিয়াল টর্চার অ্যান্ড ইমপিউনিটি (পিএসিটিআই), এবং আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।
বিবৃতিতে তারা জোর দিয়ে বলেছে, আইনজীবীদের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষা করা, আর সেটিই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভিত্তি।
